বাঁশাখালিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বাসদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি আদায়সহ ৩ দফার দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর পুলিশ এলাপাথাড়ি গুলিবর্ষণের কারণে গত ১৭ এপ্রিল স্পটেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫জন শ্রমিক নিহত হয় এবং অর্ধ শতাধিক শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। তাৎক্ষণিক বাসদ চাঁদপুর জেলা শাখার গত রোববার নতুন বাজার মোড়ে হাতে লেখা ফ্যাস্টুন নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সমন্বয়ক কমরেড শাহজাহান তালুকদার, বাসদ নেতা দিপালী রানী দাস, জেলা নেতা হারুনুর রশিদ। এরসময় উপস্থিত ছিলেন কবির হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একদিকে করোনার কারনে লকডাউন চলছে অন্যদিকে শ্রমজীবী মেহনতী মানুষ বেশীরভাগই কর্ম না থাকায় খুবই কষ্টে আছে। আবার মরার উপর খড়ার গা ন্যায়, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাসাজিতে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে অত্যন্ত অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। এমনতর পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরী বকেয়া থাকায়- সংসারের অনটনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বকেয়া মজুরী আদায়ের লক্ষ্যে ৩ দফা দাবীতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে পুলিশ এলোপাথাড়ী গুলিচালালে স্পটেই ৫ জন শ্রমিক নিহত হয় ও প্রায় অর্ধ শতাধিক শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।
বক্তারা ক্ষোভ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে কি করে পুলিশ গুলি করে শ্রমিক হত্যা করতে পারে? এমতোবস্থায় আইএলও আইন অনুযায়ী নিহত শ্রমিকদের আজীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা ও বিচারাধীন তদন্ত করে প্রকৃতদোষী পুলিশদের শাস্তি দিতে হবে। এছাড়া এস আলম কোম্পানীর সাথে যে চুক্তি হয়েছে তা বাতিল করে ঐ কোম্পানীকে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

২০ এপ্রিল, ২০২১।