ভোটাররা জিতবে কি?

নাগরিক ভাবনা…

মুসাদ্দেক আলি আকিব
নানা জল্পনা-কল্পনা ও আইন-আদালত পেরিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতিকের পাশাপাশি আরো একটি নতুনত্ব আছে এ নির্বাচনে। আর তা হলো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ। অনেকটা কৌতুহলের মধ্যেই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে এ নির্বাচনে।
ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নিরাপত্তা প্রদানে তাদের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে স্ব-স্ব অবস্থানে দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থী তাদের প্রচার-প্রচারণাও শেষ করে ক্ষণগণনা শুরু করেছেন।
কিন্তু যাদের ভোটে নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে, ভোট প্রদানের জন্য ভোট কেন্দ্রে তারা কি যাচ্ছেন?
এমন প্রশ্ন থাকলেও বাস্তবতা কি হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আজ ভোটগ্রহণের সর্বশেষ সময় পর্যন্ত। তবে বিগত দিনে জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কিছু নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কম ছিলো। এমন পরিসংখ্যান সামনে রাখলে এ নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি তেমনই হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেসকরা।
তবে কৌতুহল ও অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ইভিএমে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে কিছুটা অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে বলে দাবি করছেন অনেকেই। এমন দাবি করে স্বয়ং আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল নির্বাচনী বিভিন্ন পথসভায় বলেন, ইতোপূর্বে একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেয়ার নজির রয়েছে। তবে এবারের ভোট যেহেতু ইভিএমে হচ্ছে, তাই একজনের ভোট আরেকজন দেয়ার সুযোগ থাকবে না। যদি ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে না দেন তবে ভোট কাস্ট কম হবে। কিন্তু কারো ভোট কেউ দিতে পারবে না। তিনি তার নির্বাচনী প্রতিটি গণসংযোগে এ বিষয়ে ভোটারদের জানিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট প্রদানে ভোটারদের উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
অপরদিকে অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নানা বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও ইভিএমে ভোট প্রদানে একইভাবে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফলে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শেষদিন পর্যন্ত ভোটারদের কেন্দ্রমুখী রাখার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে সব প্রর্থীর পক্ষ থেকে, তাতে বিজ্ঞজনরা আশা করছেন এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ভোট কেন্দ্রে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তুলবে।
তবে ভোটারদের একটা অংশ ভিন্নমত পোষণ করছেন। তাদের মতে নতুন মোড়কে পুরনো পণ্য বাজারজাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আশা দেখছেন না ভিন্নমত পোষণকারী ভোটাররা। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন না এসব ভোটাররা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অনেকটা জোরপূর্বক সরকার দলীয় প্রার্থীর মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হবে। যা ইতোমধ্যে বেশকিছু ইভিএমনির্ভর নির্বাচনে দেখা গিয়েছে। তাই নির্বাচনে কে জিতবে তার চাইতেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি।
এমতাবস্থায় আজ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে কে হচ্ছেন নতুন নগরপিতা সেটি যেমন দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসী তেমনি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিটা কেমন হবে- এমন প্রশ্নে পৌরবাসীর নজর থাকছে ভোট কেন্দ্রের দিকে।
১০ অক্টোবর, ২০২০।