মতলবের অন্যতম শিক্ষাগুরু এমএ ইউসুফের ইন্তেকাল

মতলব উত্তর ব্যুরো
জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুরু মতলবের এমএ ইউসুফ স্যার আর বেঁচে নেই। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহ…….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর। তিনি ৫ ছেলে, ৩ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা মসজিদের সামনে এবং সকাল ১০টায় মরহুমের বাড়ি সংলগ্ন রামদাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।
বরেণ্য শিক্ষাগুরু এমএ আবু ইউছুফ মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নাধীন বোরোচর গ্রামে মরহুম লাল মিয়া সরকারের সংসারে ১৯৪৪ সালের ২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। এমএ ইউসুফ আড়াই বছর বয়সে বোরোচর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বাড়ি করেন তার পরিবার বর্তমান আবাসস্থল ফরাজীকান্দি ইউনিয়নাধীন রামদাশপুর গ্রামে। পিতার সংসারে পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই এম এ ইউসুফ ছিলেন সবার মধ্যমণি। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের প্রফেসর প্রখ্যাত লেখক প্রয়াত হাফেজ হাবিবুর রহমান (গঘঅ-মেম্বার অফ ন্যাশনাল এসেম্বলি) তার ভাতিজা এম এ ইউসুফ দিয়েছেন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। ধীরে ধীরে মেধার প্রসার ও লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠে কিশোর এম এ ইউসুফ। ১৯৫৯ সালে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান ঝঝঈ) পাস করেন। ১৯৬২ সালে সিলেটের সরকারি মুরারীচাঁদ কলেজ (বর্তমান সরকারি এমসি কলেজ) থেকে আইএ সম্পন্ন করেন লাখো হৃদয়ের প্রিয় শিক্ষাগুরু মো. আবু ইউসুফ। ১৯৬৪ সালে সরকারি মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন প্রিয় শিক্ষাগুরু। ১৯৬৪ সালের আগস্ট এম এ ইউসুফ প্রিয় শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী প্রয়াত বদিউর রহমান পাটোয়ারীর অনুরোধে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন শিক্ষকতার মহান পেশায়। শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৬৮ সালে কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন স্পষ্টভাষী এই আবু ইউসুফ। ১৯৬৯ সালে চাঁদপুর পুরাণবাজারস্থ নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নানাগুণে গুণান্নীত ও ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন এম এ ইউসুফ ১৯৭২ সালে নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। তিনি সততা, শিক্ষার কৌশল, ও পরিচালনায় ছিলেন দারুণ পারদর্শী তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সবার কাছে। ১৯৭৭ সালে ১৬ জানুয়ারি হাজারো মানুষের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মতলবের ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। তখন বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ছিল সবমিলিয়ে প্রায় ২৭০ জনের মতো।
অজস্র ভালোবাসায় সিক্ত আবু ইউসুফ ২০০০ সালে চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার পিংড়ায় অবস্থিত হজরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। ২০০২ সালে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন প্রধান শিক্ষকের পদে। ২০০৩ সালে হজ পালন করেন ধর্মভীরু প্রিয় ব্যক্তিত্ব এম এ ইউসুফ। ২০০৪ সালে মহান শিক্ষাগুরু অবসর নেন তার কর্ম জীবন শিক্ষকতা থেকে। সংসার জীবনে ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চিরতরে হারিয়েছেন তার সহধর্মিণীকে।

১৯ ডিসেম্বর, ২০২১।