মতলব উত্তরে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

পুলিশসহ সাধারণ মানুষ সজাগ রয়েছে

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরে হঠাৎ করে শনিবার মধ্য রাতে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কেটেছে মানুষের। পাড়া-মহল্লায় মানুষের সরগরম, ডাক-চিৎকার, মসজিদে-মসজিদে মাইকিং- গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠে সাধারণ মানুষ। ঘুম থেকে জেগেই মসজিদের মাইকে শুনতে পারে এলাকায় ডাকাত পড়তে পারে- সবাই সজাগ সতর্ক থাকুন। এরপর থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, মতলব উত্তরে গত ২ দিন ধরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে উপজেলায় ডাকাত আতঙ্ক শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে শনিবার মধ্য রাতে মানুষের ডাক চিৎকার, মসজিদে মসজিদে ডাকাত আতঙ্কের মাইকিংয়ে ঘুম ভাঙে মানুষের। মসজিদের মাইকিংয়ে পাড়া-মহল্লায়, রাস্তা-ঘাটে নেমে পড়ে দল বেধে পাহারা। এতে মানুষের মধ্যে ভয়-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে সুর্নিদিষ্ট করে কেউই বলতে পারেনি উপজেলায় কোথাও কোন ডাকাতির খবর।
এদিকে জানমাল নিয়ে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের। পুলিশ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে জোরদার করছে তাদের টহল। তবে বিষয়টিকে কেউ কেউ গুজব মনে করে যে যার মত বলে বেড়াচ্ছেন।
উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান ইঞ্জি. রেজাউল করিম বলেন, সবাই বলে ডাকাত, ডাকাত। আমি দেখিনি, শুনি ডাকাত।
তিনি বলেন, কোন পক্ষ নাশকতা সৃষ্টির জন্য হয়তো এরকম কিছু করতে পারে। তারা তো সর্বদা দেশে অস্তিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে তৎপর। তবে তাদের স্বার্থ হাসিল হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশসহ সাধারণ মানুষ সজাগ রয়েছে। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য এলাকাভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি একেবারে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আমাদের কাছে এ উপজেলায় বিভিন্ন মাধ্যমে ডাকাতি হতে পারে বলে খবর পাচ্ছি। তাই মানুষকে সতর্ক করার জন্য এলাকাভিত্তিক মাইকিং, পাহারার কথা বলা হচ্ছে। হাট-বাজার ও মহল্লায় সিসি ক্যামেরার কথা বলা হচ্ছে। যাতে কোন প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের চরমাছুয়া এলাকায় ডাকাত ডুকেছে। এ মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ একে অপরের ফোনে খবর আসে। সাথে সাথে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ চৌদ্দটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সবাইকে সতর্ক করতে শুরু হয় মাইকিং। মাইকিং শব্দ পেয়ে মানুষ ঘুম থেকে উঠে ভোর রাত পর্যন্ত ঘুম রাত মানুষের। এতে বিশেষ আতঙ্কে পড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। তারা রাত জেগে পাহারা দেয় গ্রামের অলিগলিতে।

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।