মতলব উত্তর ব্যুরো
মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের জহিরাবাদ গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের সাথে প্রতারনা করে সাড়ে ৬৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার স্বীকার হয়ে আকস্মিক মৃত্যু হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের।
এ বিষয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার ও ভাগিনা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানার পৃথক দু’টি অভিযোগ করেন প্রতারক শহিদুল্লাহসহ আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, জহিরাবাদ গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. শহীদুল্লাহ ব্যাংকের ভুয়া জমা স্লীপ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের পৈত্রিক জমি মতলব উত্তর মধ্যে সাবেক ১৩৪ হাল ১৫১ নং মৌজা জহিরাবাদ মধ্যে সাবেক ৮১, ২৯, ২৪৮, ২২০, ১১৩, ২৭৩ নং চুড়ান্ত বিএস ৩৩নং খতিয়ানে রায়তি স্বত্বঃ বিএস ৩৪ নং দাগে নাল ৪২শতাংশ, বিএস ৩৪নং দাগে ভিটা মো. ১৯ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশ ও বিএস ৭৪নং দাগে বাড়ী মো. ২১ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশ মোট সাড়ে ৬৫ শতাংশ জমি ৫ জানুয়ারী ২০২৩ সালে ১৪৬নং দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে নেন। যার মূল্য লেখা হয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে মোহনপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে তার নামীয় ৬৫.৫০ শতক সম্পত্তি মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণপূর্বক রেজিস্ট্রি করিয়া নেয় এবং আমাদের জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র জব্দ করে নেয়। পরবর্তীতে শহীদুল্লাহ আমার বাবার নামে নতুন বাজার ইসলামী ব্যাংক শাখায় তার নামে একাউন্ট খুলে ওই একাউন্টে তার জমি বিক্রির সব টাকা সঞ্চয় রেখেছে বলে ভুয়া ব্যাংক রিসিট হাতে ধরিয়ে শহীদুল্লাহ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আমার বাবা বাড়িতে এসে বিষয়টি আমাদের ফুফাতো ভাইকে জানান। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ওই রিসিট নিয়ে ব্যাংক শাখায় যান এবং বিবাদীদের প্রতারণার বিষয় বুঝতে পেরে আমার পিতা সাথে সাথেই সেখানে স্ট্রোক মারা যান।
মো. শহীদুল্লার এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে আমিসহ আমার সব আত্মীয়-স্বজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই। গত ১৩ জানুয়ারি জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজীর কার্যালয়ে তার নেতৃত্বে সালিসে বসে। ঐ সালিসে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সামনে শহীদুল্লাহর কর্মকান্ডের বিষয়ে স্বীকার করে, আমার পিতার নামীয় সব সম্পত্তি ও দলিলপত্র ফেরত দিবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে আমাদের বিভিন্ন ভয়-ভীতিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়।
জহিরাবাদ এলাকার প্রবীণ আবু বকর সরকার, আলী আজগর সরদার, খোকন মেম্বার, আবদুর রশিদ, মোস্তফা সরকার জানান, গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ অন্ধ ছিলেন। তার সাথে প্রতারণা করে ভুয়া ব্যাংকে টাকা জমার স্লীপ দিয়ে দলিল করে নেন। এটা এলাকায় প্রমাণিত। মো. শহীদুল্লাহ ঘটনার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমি টাকা দিয়ে সঠিকভাবেই জমি রেজিস্ট্রে করেছি। কোন ধরনের প্রতারণা করিনি।
১৮ মে, ২০২৩।
