মতলব উত্তরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের নির্মাণ কাজ


মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের নির্মাণ কাজ। গতকাল সোমবার সকালে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামে দেখা যায় নির্মাণ কাজের চিত্র। রাজমিস্ত্রিরা সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা ও টিআর কর্মসূূচির বিশেষ খাতের অর্থে মানবিক সহায়তায় এসব বাড়ি পাচ্ছে ৪৮টি পরিবার। ওই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার অস্বচ্ছল, হতদরিদ্র, ঘরহীন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে গৃহহীন পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ ৪৮টি পরিবারের মধ্যে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।
উপকারভোগীরা জানান, নিজেদের সামান্য জমি থাকলেও ঘর বানানোর সামর্থ্য নাই। বেঁচে আছি গ্রামের মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। সরকারি খরচে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পাওয়ার শেষ জীবনটা হবে সুখের, নতুন বাড়িতে ভালভাবে থাকতে পারব এমনটিই আশাবাদি তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মো. আওরঙ্গজেব জানান, উপজেলায় ৪৮টি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাড়িগুলো ইট দিয়ে তৈরি, কাঠের দরজা-জানালা, অত্যাধুনিক রঙিন টিনের ছাউনি, ১০ ফিট লম্বা ও ১০ ফিট আয়তনের দুই কক্ষের বাড়ি, একটি রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্ব¡াবধানে দুর্যোগ প্রতিরোধী এমন বাড়ি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে সরকারের খরচ দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএম জহিরুল হায়াত এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনব ও চমৎকার একটি কর্মসূচি। দারিদ্র্যতা থেকে উত্তরণের জন্য এবং হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সরকার এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আর এ কারণে সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থে এই ঘর গুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে গ্রামের অসচ্ছল, হতদরিদ্র, ঘরহীন, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত মহিলা, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ বিনামূল্যে পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় ঘর। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে, গ্রামের এই পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা। তিনি আরও বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ৪৮টি বাড়ি দেয়া হয়েছে।