মতলব উত্তরে ২ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উংসবের উদ্বোধন

ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের দেশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ
…………মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ২ দিনব্যাপী উপজেলা সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় ও দেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর বাস্তবায়নে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই সাংস্কৃতিক উৎসবটি হয় দেশের ১০টি উপজেলায়। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) গজরায় আধুনিক উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীতে বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি স্নেহাশিষ দাশের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর স্বরলিপি নাট্যগোষ্ঠির সভাপতি সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
তিনি বলেন, জাতি গঠনের মূল ভিত্তি আমাদের সংস্কৃতি। বর্তমান পৃথিবীতে চীনের যে উত্থান, তার পটভূমি কিন্তু সাংস্কৃতিক বিপ্লব। এ বাংলার বাইরে সারা বিশ্বে আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে আছে। আজকের যে স্বাভাবিকতা, স্বাধীনতা আমরা ভোগ করছি এর কারণ আমরা বাঙালি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের দেশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ। এখানে বহু জন-জাতি তাদের আপনাপন ভাষা ও সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা যায় না।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আমাদের সমাজ ও সমাজের সকলকে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। একটি জাতির মূল পরিচয় তার সংস্কৃতিতে। সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের চলমান ধারা। রাতারাতি সংস্কৃতির জন্ম হয় না। একটি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আচার-আচরণ অভ্যাস, চিন্তা ও ভাবনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তার নিজস্ব সংস্কৃতি। সংস্কৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। যে গান শুনতে ভালোবাসে না। সে মানুষ খুন করতে পারে। আমাদের আনন্দ ও মুক্তির সোপান রয়েছে দেশের সংস্কৃতিতে।
তিনি আরো বলেন, যেসব শিল্পী হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের তুলে আনার চেষ্টা করছে সরকার। সরকারের ভিষণ বাস্তবায়নে এটি একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। সুন্দর ও আনন্দে ভরে উঠুক আমাদের মাঝে। দেশপ্রেমের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমরা সরকারের উন্নয়নে কাজ করে যাবে।
আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, আমরা এই সাংস্কৃতি উৎসবের মধ্য দিয়ে সবাইকে উপস্থাপনা করার চেষ্টা করছি। আমরা এই উপজেলার শিকড়ের সন্ধানে রয়েছি। আমরা এই উৎসব ঘিরে একটি আনন্দ উৎসবে রূপান্তরিত করি। আমাদের মধ্যে দেশ প্রেম জাগ্রত করতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতিকে ঘিরে মতলব উত্তরকে আরো এগিয়ে নিতে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, মোহনপুর পর্যটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. শহীদ উল্যাহ প্রধান, মেঘনা-ধনাগোদা পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিন, চাঁদপুরের সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তপন সরকার।
এমএ কুদ্দুস বলেন, এটি হবে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব। শিক্ষায় সংস্কৃতিতে মানবিক মূল্যবোধে, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন যে সংস্কৃতির কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধু যেই স্বপ্নটা দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা কালচারাল অফিসার আয়াজ মাহমুদ, গজরা ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ হানিফ দর্জি, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানাউল্যাহ মোল্লা, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার প্রমুখ।
৩১ জানুয়ারি, ২০২১।