মতলব দক্ষিণে মসজিদের নির্মাণ কাজে বাঁধা

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশি নাইমুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মসজিদের জায়গার উপর ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করায় মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ায় মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ৈগাঁও ভূঁইয়া বাড়ি মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া শাহী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ার এ অভিযোগ উঠেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মসজিদের নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা এবং এহেন ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় মুসুল্লীরা।
জানা যায়, গত প্রায় ৪ মাস আগে উত্তর বাড়ৈগাঁও ভূঁইয়া বাড়ি মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া শাহী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে বেইজ ঢালাই, পিলার তৈরি করে মসজিদের ছাদ ঢালাই করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এমতাবস্থায় প্রতিবেশী মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. নাইমুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর জজ আদালতে মসজিদের জায়গার উপর ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন। যার নং ১০১০/২০২০, তারিখ-০৮/১২/২০২০, স্মারক নং ২১৫৯। আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
এদিকে নালিশী ভূমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত ১৯৯৬ সালের ২২ এপ্রিল তারিখে গৌরাঙ্গ চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে পরিমল ভৌমিকের কাছ থেকে মৃত মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মো. শাহআলম ভূঁইয়া সাবেক ১০ দাগে মোট ৬ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলে রেজিস্ট্রি করেন। দলিল নং ১৭৩১।
পরবর্তীতে মো. শাহআলম ভূঁইয়া উক্ত সম্পত্তি তার ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার কাছে বিগত ২০০১ সালের ২৭ মে তারিখে বিক্রি করে দেন। যার দলিল নং ২৭৮০। মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া উক্ত সম্পত্তি নির্মাণাধীন মসজিদের নামে বিগত ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে ওয়াক্ফ দলিল সম্পাদন করে দেন। ওয়াক্ফ দলিল নং ৩৮৩৭। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তিতে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হলে প্রতিবেশি মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. নাইমুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর জজ আদালতে মসজিদের জায়গার উপর ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করার পর বর্তমানে মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে।
সরেজমিনে গেলে মসজিদের একাধিক মুসল্লি জানান, আমরা এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করি। বর্তমানে মসজিদটি ফাউন্ডেশন নিয়ে নির্মাণ করার জন্য আমরা দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবত পরিশ্রম করছি। এমতাবস্থায় মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দেয়া একটি অমানবিক কাজ। মসজিদের নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা এবং এহেন ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আদালতের কাছে জোর দাবি জানাই।
২০ ডিসেম্বর, ২০২০।