মতলব দক্ষিণে সম্পত্তিগত বিরোধে ইমামের মৃত্যু

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ ধামাচাপা দিতে সহধর ও তার ভাগিনা আক্তার হোসেনকে রক্ষা করতে পরিবারের লোকজন এ হত্যাকাণ্ডকে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাড়ৈগাঁও (নাদিম খার দিঘিরপাড়) বেপারী বাড়ির মৃত আলী আহাম্মদ বেপারীর ছেলে আ. রাজ্জাক রেনু বেপারীর (৬০) সাথে তার ভাগিনা আক্তার হোসেনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে।
গত ২৪ জুন ভাগিনা আক্তার হোসেন বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর তুলতে গেলে বাধাঁ দেন আ. রাজ্জাক। পরদিন শুক্রবার সকালে লোকজন নিয়ে ঘরের কাজ করতে গেলে আ. রাজ্জাক আবারও বাঁধা দেন। এ সময় আক্তার হোসেনসহ লোকজন তাকে মারধর করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। ওই সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা নারায়ণপুর টাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান আ. রাজ্জাক ওরফে রেনু বেপারী একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিমাপ ছাড়াই জোর করে ঘর নির্মাণ করতে গেলে তিনি বাঁধা দেন। ওই সময় মৃতের বড় ভাই মো. সহিদ বেপারী ও তার ভাগিনা আক্তার হোসেন গং তাকে মারধর করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত ইমাম আ. রাজ্জাক ওরফে রেনু বেপারী গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে যান।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া ঘটনাস্থলে যান এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন মিয়া জানান, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেনু মিয়ার মৃত্যু নিয়ে এ পর্যন্ত কারো পক্ষ থেকে কোন প্রকার অভিযোগ পাইনি। তবে তিনি কিভাবে মৃত্যুবরণ করলেন তা জানার জন্য লাশের সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

২৭ জুন, ২০২১।