মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রজন্মের স্মৃতিচারণ


স্টাফ রিপোর্টার
‘এসো মিলি মুক্তির মোহনায়’ স্লোগানে ২৮তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় প্রজন্মের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানের সভাপতিত্বে এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান টিটুর পরিচালনায় তা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সাথে যার নাম জড়িয়ে আছে তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখা সম্ভব নয়। সেই মহান নেতার জন্মশতবার্ষিকী। প্রতিটি ক্ষণে অর্থাৎ ঘুম থেকে উঠলেই যার নাম স্মরণ হয় তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা বাস্তবায়ণ হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন। যে দেশে জনগণ থাকবে সে দেশে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর এদেশকে কাফেলার রাষ্ট্রে পরিণত কর হয়েছিল। ২৭ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সবশেষ হত্যার পরিকল্পনা করা হয় ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকলে আজকের বাংলাদেশ কী হতো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আগামিতে এদেশের দায়িত্ব নিতে হবে ছাত্রলীগকে।
তিনি আরো বলেন, আমরাও ৭১ এর প্রজন্ম। কয়েক বছর পর আমরা ভাটির দিকে চলে যাব। ছাত্র রাজনীতি করার সময় দাবিয়ে বেড়িয়েছি। পাকিস্তানের দিক থেকে আমরা বর্তমানে অনেক এগিয়ে আছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার জন্য আমার বাবা বিমান বাহিনীর চাকরি ছেড়ে ১৯৬৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। পাকিস্তানিদের গোলামি না করার জন্য তিনি সেদিন চাকরি ছেড়েছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন কর্মী। আমাদের মতো সন্তানের বাবাদের নেতৃত্বে সেদিন মুজিব নগর সরকার গঠন করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেতাম না। যারা রাজাকারদের এদেশে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী বানিয়েছে তারা এদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট হত্যা করেছে। তাদের ধিক্কার জানাই। হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে ১৯৯২ সালে বিজয় মেলা শুরু হয়। এরপর দেখেছি এই মেলাকে নিয়ে বহু ঘটনা ঘটেছে। আজ কোন প্রকার ঘটনা ছাড়াই বিজয় মেলা হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে। বঙ্গবন্দুর যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন বর্তমানে দেশ সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে এদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধশালীর দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। আজ দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয় না। দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। আর চাঁদপুরের উন্নয়নে রূপকার হিসেবে রয়েছেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। তিনি চাঁদপুর হাইমচরের উন্নয়ন কন্যা। শেখ হাসিনার সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী বেপারী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্র সংসদের এজিএস নুরুল হায়দার সংগ্রাম, মতলব ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি আবুল কাশেম পারভেজ প্রমুখ।