নিয়ন মতিয়ুল
সাংবাদিক হিসেবে যিনি যত বড় ‘হিরো’, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় তিনি তত বড় ‘জিরো’- কথাটি আপ্তবাক্য। কারণ, দুই বছরে বাজারে আসা মেগা বাজেটের পত্রিকাগুলোর একটাও ব্যবসায় সফল হয়নি। প্রোমোতেই ‘হেক্সা’ বাজেট হাঁকিয়ে পাঠকের প্রত্যাশাকে সপ্তমে চড়িয়ে ছেড়েছে। অথচ মাঠে নেমে গোল না দিয়েই হাঁপাহাঁপি উঠেছে। ফল হিসেবে ব্যয় কমাতে করছে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো স্টুপিডিটি! (সম্প্রতি মেগা বাজেটের দু’একটি পত্রিকার সতর্কঘণ্টা কানে আসছে।)
মনে রাখতে হবে, বিশ্বায়নের ধাক্কায় পশ্চিম-পূর্ব, উন্নত-উন্নয়নশীল সব এখন একাকার। সম্প্রতি আমেরিকান লিডিং মডার্ন মিডিয়া কোম্পানি ‘ভক্স’ কর্মী ছাঁটাই করেছে। তার আগে শত বছরের এনবিসি, অর্ধশতকের সিএনএন-সহ দাপুটেরাও হেঁটেছে একই পথে। আর করোনাকালে গণমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ব্যবসা গুটানোর ইতিহাস তো সবার জানা।
তবে সমস্যাটা হচ্ছে, বিশ্বায়নের কারণেই আগের মতো পশ্চিমা মিডিয়ার পথ অনুসরণ কিংবা দায় চাপানোর সুযোগ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তাই প্রাচ্যের ‘হিরোরা’ সংকট থেকে উত্তরণের বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত খুঁজে না পেয়ে হতাশ। ‘পিআইবি’ বা মিডিয়ার স্যারেরা মৌল কাঠামোর নবায়ন না করে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে ছুটছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার ‘মোজো’তে দক্ষ হয়ে ওঠার তাগিদ দিচ্ছেন! (পুস্তকের পাতা গেলানোর মতো!)
মূলত, মৌল কাঠামোর আধুনিকায়ন ছাড়া মেগা বাজেটের পত্রিকা আর কখনই ব্যবসা সফল হবে না। অর্থনীতিতে ব্যয় কমানো কাজের কথা নয়। বরং আয় বাড়িয়েই টিকে থাকতে হয়। আর আয় বাড়াতে গিয়ে যখন সরকার বা করপোরেট বসদের আদর আপ্যায়নে মেতে থাকবেন কিংবা তথাকথিত ‘বস্তুনিষ্ঠ’ সাংবাদিকতার পথ ধরে নেতিবাচক হেডিংয়ে পত্রিকা সয়লাব করবেন তখন ‘সাটার’ বন্ধ করতেই হবে! সেটা টিভি বা অনলাইন হলেও।
কারণ ‘গণ’ ছাড়া গণমাধ্যম সরকার কিংবা করপোরেট বসদের কাছে শেষ অবধি টিস্যুই!
(গণমাধ্যমের মেগা ভাবনা: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা)
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
