মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ৫০ বছরের দাবি ছিল মতলব-গজারিয়া সেতু নির্মাণের। অবশেষে এসব অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন। চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ও গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের অংশবিশেষ মেঘনা নদীর ওপর এটি নির্মাণ করা হবে।
মতলব উত্তরের কৃতী সন্তান প্রফেসর ড. শামসুল আলম পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর মতলববাসীর আশা-আকাক্সক্ষা বেড়েছে। মতলব উত্তরের সচেতনমহলের দাবি দীর্ঘ ৫০ বছরেও এ সেতুটি নির্মাণে কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। প্রফেসর ড. শামসুল আলম তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিক এ সেতু নির্মাণ করবেন।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট, ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা, সেতুর ডিজাইন, পরিবীক্ষণ, তদারকি উপদেষ্টা ফার্মের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে।
সেতুর নকশা: সেতুর নকশা হবে স্টিল ফ্রেমের উপর কংক্রিট ঢালাই। একটি উন্নত দেশের নদীর উপর নির্মিত সেতুর নকশা অনুসরণে প্রণয়ন করা হবে। সেতুর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যেন নদীর নাব্যতা পানির প্রবাহ কোন চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয়। সেতুটি হবে দৃষ্টিনন্দন, যা একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এলাকার মানুষ উপভোগ করতে পারবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুফল: ঢাকা থেকে গৌরীপুর ও মতলব উত্তর উপজেলা সদরে চাঁদপুর জেলা সদরের বর্তমান দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকা থেকে ভবেরচর হয়ে গজারিয়া উপজেলার সীমানার উপর দিয়ে প্রস্তাবিত সেতু হয়। তখন ঢাকা থেকে চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব হবে সর্বোচ্চ ৬৮ কিলোমিটার। সেতু নির্মিত হলে ঢাকা-চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার সড়ক পথ কমে যাবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভ্রমণ ব্যয় কমবে, একই সাথে ভ্রমণ সময়ও কমবে প্রায় এক ঘণ্টা। বর্তমানে ঢাকা থেকে চাঁদপুর জেলা সদরের যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়। সেতু নির্মিত হলে এ সময় ২ ঘণ্টায় নেমে আসবে। ফলে চাঁদপুরগামী মানুষসহ মালামাল পরিবহনের প্রচুর অর্থের সাশ্রয় হবে। সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, শরীয়তপুর এবং চট্টগ্রামসহ অন্য জেলার সাথে যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, মতলব উত্তরের কৃতী সন্তান ড. শামসুল আলম পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আমাদের চাওয়াও বেড়েছে। মতলব-গজারিয়া সেতুটি তাঁর হাত ধরেই শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্প সময়ের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন আশা করছি। এ সেতুটি মতলব তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিক। উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরো বলেন, এ সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর. নোয়াখালী, ফেনীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সাধিত হবে।
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন জানান, অনেক বছর ধরে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি করেন এলাকাবাসী। এখন এটির বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে তিনি আনন্দিত।
মতলব ও গজারিয়ার মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে শুধু চাঁদপুরই নয়, সড়কপথে বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজন দ্রুত সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সিলেটে পৌঁছতে পারবেন।
২৫ আগস্ট, ২০২১।
