চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ লেনের দাবি
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চায় শহরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসী এমন দাবি করে আসলেও সড়কগুলো প্রশস্ত করার উদ্যোগ দেখেনি তারা। ইতোমধ্যে চাঁদপুর পৌর মেয়রের উদ্যোগে শহরের চিত্রলেখা মোড়ে কিছু অংশের সড়ক প্রশস্ত হলেও হয়নি সরকারি কলেজ ও বিপণীবাগ বাজার এলাকাটি। যার কারণে যানজট লেগেই থাকে শহরজুড়ে।
শহরবাসী বলছে, চাঁদপুর শহরে এক সময় রিক্সার চাপে বেহাল দশা থাকলেও এখন ব্যাটারিচালিত অটোর উপদ্রব যেন পিছু ছাড়ছে না। এই ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ডিজিটাল নম্বর প্লেট দিয়ে সংখ্যা নির্ধারণ করতে চাইলেও তা অনেকটাই এখন হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এইসব ব্যাটারিচালিত অটোকে।
এদিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি অনেকটাই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি দীর্ঘদিন মেরামত না করায় গর্তসহ পিচের কংক্রিট উঠে যাচ্ছে। সড়কটিতে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোর দৌঁড়-ঝাপের কারণে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই। যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।
এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি চার লেন কারার দাবি জানিয়েছেন গাড়ি চালকরা। এমন দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি নজরদারী করছে। সড়কটির সক্ষমতার উপর নির্ভর করছে চার লেনের বিষয়টি। তবে সংশ্লিষ্টরা উর্ধ্বতন পর্যায়ে মতামত পাঠাবে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
চাঁদপুর শহরবাসী তাদের শহরকে যানজট মুক্ত করতে পৌর মেয়রের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নির্ধারিত নম্বর প্লেটের বাইরে যেসব অটো পার্শ্ববর্তী গ্রাম কিংবা উপজেলাগুলো হতে আসে তাদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। শহরবাসীর দাবি শহরের প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে পৌরসভার ভলেন্টিয়াররা অটো ও সিএনজি থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে। ঐ সময়ে যদি নম্বর প্লেটবিহীন অটোগুলো আটকে দেয়া যায় তাহলে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
এছাড়া স্বর্ণখোলা রোডের বাস স্ট্যান্ডটি দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তরিত করতে পারলে ওয়ারলেস মোড় থেকে ইলিশ চত্বর পর্যন্ত যানজট মুক্ত করা সম্ভব হবে। এজন্য চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের সুধীজনদের মতামত নিয়ে করে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অনেকাংশেই সমস্যা থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, কুমিল্লা-লালমাই-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই কেবল চার লেন করা সম্ভব। যদিও কুমিল্লা থেকে লালমাই অংশে ফোর লেন করা হয়েছে।
বর্তমানে লালমাই থেকে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সড়কটির সংযোগের প্রায় ১শ’ ৫২ কিলোমিটার এলাকা অনেকটাই সরু। পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিবহনের চাপে সড়কটি প্রায় ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। যার কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে এই সড়কে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন চালকরা দাবি করে আসছে অতি দ্রুত সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করার জন্য। বাস চালক ইসহাক গাজী, সফিকুর রহমান ও সুমন মিয়া জানান, এই সড়কটিতে যানবাহনের চাপ অত্যাধিক।
এছাড়া চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে রিল্যাক্স, বোগদাদ ও পদ্মাসহ বিভিন্ন পরিবহনের সাথে আরো পণ্যবাহী প্রচুর গাড়ি চলাচল করে আসছে। এতে করে গাড়িগুলো পরস্পর প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, আর প্রাণ হারাচ্ছে সর্বসাধারণ।
আঞ্চলিক এই সড়কটি ফোর লেন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষরাও আরামদায়ক ভ্রমণ করতে পারতো বলে চালকরা জানান। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামের অনেক পরিবহনই চাঁদপুর হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, কোন সড়ককে চার লেন করতে চাইলে ৯০ ফিট ভূমির প্রয়োজন হয়। অথচ অধিগ্রহণ করা আছে ১শ’ ২০ ফুট। এমনকি কোথও কোথাও ১শ’ ৬০ ফিট ভূমি অধিগ্রহণ করা আছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ তাদের সদিচ্ছার মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত ফোর লেন করতে পারে।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেনের মতে সড়কটির দু’একটি স্থানে হাট-বাজার কিংবা শহরের কারণে যানজট তৈরি হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সড়কটি ফোর লেন করা সম্ভব হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
তবে তার মতে গাড়ির চাপের বিপরীতে স্থানীয় হাট-বাজার ঘিরে মানুষের ভিড় আর বিড়ম্বনার বিষয়টি সবাইকেই ভাবিয়ে তুলছে। তারপরও সরকার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি অন্তর্ভূক্ত করতে পদক্ষেপ নিবে।
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
