প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে সবসময় আছেন
………..আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান
শাহ আলম খান
চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ^র ইউনিয়নে মেঘনা নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২শ’ ৮৩ পরিবারে চাল, শুকনো খাবার ও সরকারের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজরাজেশ^র ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ত্রাণ তুলে দিয়েছি। তারপরও আমরা এসেছি আপনাদের অবস্থা দেখার জন্যে। আপনারা কেমন আছেন তা দেখেই বুজতে পারছি। আজ আমরা ১ হাজার ২শ’ ৮৩ জনকে ত্রাণ দেয়ার পরও যদি কেউ বাদ পরেন তাহলে আমরা তাদেরও ত্রাণ দিবো। আমাদের জেলা প্রশাসনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ রয়েছে। শুধু মানুষের জন্য নয়, পশু-পাখিদের জন্যেও ত্রাণ ও নগদ টাকা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আজ আপনাদের কাছে একটি বার্তা নিয়ে এসেছি, তা হলো প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে আছেন। আপনাদের যেকোন প্রয়োজনে আমরা আপনাদের পাশে আছি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, আপনারা যারা পানিবন্দী রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে অনেকের বসত ঘর-বাড়ি ভেঙে গেছে, তাদের জন্য রইলো সহমর্মিতা। আপনারা মন খারাপ করবেন না। আমরা জানি রাজরাজেশ্বরের মানুষরা অনেক সাহসী এবং শক্তিশালী। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তারা এক হয়ে মোকাবিলা করেন। এই ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনিয়ন চাইতে অনেক ভালো। আমরা এইভাবে সবসময় একসাথে এবং পাশাপাশি থেকে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করবো।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন বেপারী, স্বেচ্ছাসেবক দলের ওমর ফারুক, সেলিম রেজা, শাহআলম মল্লিক, মো. জাহিদুল হক মিলন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬শ’ পরিবারের মাঝে চাল, ১শ’ ৫০ পরিবারকে শুকনো খাবার ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ৫শ’ ৩৩ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার চাল বিতরণ করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে প্রায় ৪শ’ পরিবার পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ওই ওয়ার্ডে নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছিন্নমূল পরিবারগুলো ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকায় অস্থায়ীভাবে এসে অবস্থান নিয়েছে।
২৬ জুলাই, ২০২০।
