
আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায়
নোমান হোসেন আখন্দ :
আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় ‘কল সেন্টার’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন শাহরাস্তির সর্বস্তরের জনগণ। জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থা বিনির্মাণে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ‘কল সেন্টারে’ নিয়োজিত উদ্যোক্তারা।
উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ২০১৬ সালে সারাদেশে সর্বপ্রথম শাহরাস্তি উপজেলায় ‘কল সেন্টার’ ব্যবস্থা কার্যক্রম প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামিউল মাসুদ। ঐ বছর ৪ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলায় কল সেন্টারের উদ্বোধন করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।
কল সেন্টার শুরুর পর থেকেই জনগণের সামাজিক উন্নয়ন নিরাপত্তায় ৪টি নম্বরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা জনগণ তাদের অভিযোগ প্রদান ও সেবা গ্রহণ করছেন। কল সেন্টার চালুর পর থেকেই উপজেলায় ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ অনেকাংশেই কমে এসেছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়ন ডিজিটাল সেবা প্রদান, মনিটরিং, বিদ্যুৎ সমস্যা, রাস্তা-ঘাটসহ যেকোন সমস্যা সমাধানে কল সেন্টারের মাধ্যমে জনগণ এ সেবা পেয়ে আসছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে কল সেন্টারের সহযোগিতা নিয়ে অনেকে আজ আত্মকর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নিতি ও দীর্ঘদিনের সম্পত্তিগত জটিলতা জনগণ কল সেন্টারের মাধ্যমে সহযোগিতা নিয়ে নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন। ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানে কল সেন্টারে নিয়োজিত উদ্যোক্তারা প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিযোগ ও সমস্যা নিরোসনের সমাধানকল্পে যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি প্রদানে কাজ করে চলেছে।
কল সেন্টারে নিয়োজিত উদ্যোক্তা মো. মাসুদ আলম ও উম্মে সালমা জানান, প্রতিদিনই আমরা উন্নয়ন, সম্ভাবনা বিষয়ক তথ্য, নতুন-নতুন অভিযোগ পাচ্ছি। জনগণ তাদের যেকোন সমস্যা নিরসনে প্রসাশনিক সহযোগিতার জন্য কল সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করছেন। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি জনগণকে আরো উন্নত কাক্সিক্ষত সেবা দিতে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্যাহ মারুফ জানান, কল সেন্টারের মাধ্যমে কাঙ্খিত সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। চেষ্টা করে যাচ্ছি জনগণকে তাদের উপযুক্ত সেবা প্রদানে। ভবিষ্যতে শাহরাস্তি উপজেলা কল সেন্টারকে আরো ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারিত করে জনগণকে তাদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
