শীতে কাবু চাঁদপুরের চরাঞ্চলের মানুষ

শাহ আলম খান
মতলব উত্তর থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৪০টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলেই চরম কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে চরাঞ্চলের শিশু, নারী ও পুরুষ শীতে কাবু হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই চাঁদপুরে সূর্যের দেখা মিলেনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সূর্য একবার উঁকি দিলেও মুহূর্তে আবার হারিয়ে যায়। এতে শ্রমিক, মজুর ও দৈনন্দিন খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কাজ কর্মেও ছন্দপতন ঘটেছে। শীতের কারণে সকালে অনেকেই দেরি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে সড়কে জনসমাগম ছিলো কম। তবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও বীমা ইত্যাদি খোলা থাকার কারণে শীতের মধ্যেও কর্মজীবী মানুষগুলো বের হতে হয়েছে।
হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। কারণ চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশটা সুন্দর না থাকায় অর্থাৎ গাছপালা কম হওয়ার কারণে কূয়াশার আর বাতাস দু’টোই তাদের ছোট ছোট ঘরগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে।
মেঘনা ও পদ্মার ভাঙনের শিকার হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ীভাবে ঘর তৈরী করে কোনরকম বসবাস করে চরাঞ্চলে। তবে সরকারিভাবে মলতব উত্তর, সদর ও হাইমচরে গুচ্ছগ্রাম তৈরী করা হয়েছে। সেগুলোতে গাছপালা কম হওয়ার কারণে রোদ, বৃষ্টি ও শীত সব মৌসুমেই কষ্টে দিনাতিপাত করেন চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত পরিবারগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরাঞ্চলের মানুষগুলো বেশিরভাগ কৃষি ও মৎস্য আহরণ করে জীবন নির্বাহ করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ার কারণে চিকিৎসাসহ সরকারি অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মনসুর খান বলেন, সকাল থেকে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে গুচ্ছগ্রামের মানুষগুলো শীত কাবু হয়ে গেছে। এখানকার মানুষগুলো শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জালিয়ে ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে।