শুকিয়ে যাচ্ছে আমের মুকুল

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরসহ চাঁদপুর জেলার আম বাগানগুলোতে অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের পর থেকে সেভাবে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবছর অনেক আম গাছেই মুকুল আসেনি। যে গাছগুলোতে মুকুল এসেছে তাও খরার কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে। চাষিরা বলছেন, দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সেচের আওতার বাইরে যে বাগান রয়েছে সেগুলোতে মুকুল শুকিয়ে ও আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে পড়বে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আমবাগান রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় গত মৌসুমে এই এলাকায় আমের উৎপাদন হয়েছিল আশানুরূপ। তবে এ বছর খরার কারণে বেশিরভাগ বাগানগুলোতে আমের মুকুল আসেনি। যার কারণে এবার প্রাথমিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ আমগাছে মুকুল আসেনি। তবে লখনা, আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, দুধসর ও কালুয়া জাতের কিছু গাছে মুকুল এসেছে। এর মধ্যে সঠিক পরিচর্যা করায় অনেক চাষিদের বাগানে আমের গুটি দেখা দিয়েছে।
ফতেপুর এলাকার আমচাষি আজমল হোসেন বলেন, চলতি আমের মৌসুমে এখনো পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। এই কারণে অনেক আমবাগানে মুকুল দেখা দেয়নি। আমাদের সেচের আওতায় যে গাছগুলো আছে সেগুলোতে বেশি মুকুল এসেছে। আর সেচের আওতার বাইরের ফজলি, আশ্বিনা ও আঁটি জাতের কিছু বাগানে স্বল্প মুকুল দেখা দিলেও তা খরার কারণে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর এই এলাকায় আর বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে আগামি দু’চারদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগের চেয়ে চাষিরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শে বাগানগুলোতে নিয়মিত সেচ ও সঠিক সময় পরিচর্যা করছেন। আশা করা হচ্ছে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করলে আমের ফলন ভালো হবে।
১৬ মার্চ, ২০২১।