
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
আবারো সকাল-সন্ধ্যা পূজারীদের উলুধ্বনি ছড়িয়ে পড়বে। পূজা পার্বণে ঢাকের তালে-তালে মুখরিত হবে চারপাশ। পাঁচশ’ বছর পর আবারো নতুনরূপে সাজবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া বরদেশ্বরী কালী মন্দির।
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইল গ্রামে অবস্থিত প্রায় পাঁচশ’ বছরের প্রাচীন বরদেশ্বরী কালী মন্দিরটি অবশেষে পুনঃনির্মাণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে প্রাচীন এই মন্দিরটির পুনঃনির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য কালে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, আগামি এক বছরের মধ্যে আধুনিক ডিজাইনে মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। এসময় তিনি মন্দির পুনঃনির্মাণ কাজে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন। সেই সাথে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নারায়ন দেব নাথ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ তমাল ও জেলা পরিষদের সদস্য ভিপি জাকির হোসেন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ সরকার বিষুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শ্রীকাইল কলেজের সাবেক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য্য, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিত্যনন্দ রায়, শ্রীকাইল ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হানিফ সরকার, শ্রীকাইল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিয়া গোলাম সারোয়ার, পূর্বধইর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক বন কুমার শিব, উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সাহা প্রমুখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন মুসলেহ উদ্দিন মাস্টার, আউয়াল সওদাগর, আব্দুস সাত্তার, নিজামুল হক মাস্টার, শুকলাল দেবনাথ, লিটন রক্ষিত, নারায়ন সরকার, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জিসু, সুমন সরকার, শ্যামল কর, শ্রীকাইল ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস, যুবলীগ নেতা মো. ইব্রাহিম, ইকবাল বাহার, কমল সরকার।
উল্লেখ্য, শ্রীকাইল গ্রামের বরদেশ্বরী মন্দিরটির বংশ পরম্পরায় সেবায়তের দায়িত্ব পালন করে আসছেন পবিত্র কুমার চক্রবর্তীর পরিবার। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে এর সেবায়েত পবিত্র কুমার চক্রবর্তীর পরিবারের সাথে আইনী জটিলতা থাকায় প্রাচীনতম এই মন্দিরটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয়নি। এতে মন্দিরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। এমতাবস্থায় এটি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।
