
বিদ্যুৎ দেয়ার নামে
স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামে বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে আহচান উল্যা নামে এক ব্যক্তি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ করেছেন একই গ্রামের চকিদার বাড়ির ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন ।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, ষোলদানা গ্রামের চকিদার বাড়ির মো. আহচান উল্লা নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে মোট ২৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২১ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, আহচান উল্যা আমাদের একই বাড়ির লোক। সে প্রতিবেশী সেলিম চৌধুরীর সামনে আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুতের পিলারের জন্য ২৫ হাজার ও মিটারের জন্য ১৬ হাজার ৫শ’ টাকাসহ সর্বমোট ৪১ হাজার ৫শ’ টাকা নেয়। আরেক ভুক্তভোগী আলহাজ ছফিউল্যার কাছ থেকে ৪৩ হাজার এবং ২১ হাজার টাকা করে গ্রাহক আনোয়ার, রুহুল আমিন, জামাল ও বাবুলসহ মোট ২৪ জনের কাছ থেকে নেয়। গত ৬ মাস আগে টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত বিদুতের দেখা নেই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা জানতাম বিদ্যুৎ আনতে কোন টাকা লাগে না। কিন্তু আহচান উল্লা আমাদের জানান, ঐ নিয়ম এখন আর নাই। এখন বিদ্যুতের পিলারসহ অন্যান্য জিনিস কিনে আনতে হয় এবং বিভিন্ন টেবিলে টাকা দিতে হয়। এসব বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয় সে। হাজি ছফিউল্লা ও দেলোয়ার হোসেন জানান, আহচান উল্লা আমাদের সাথে যে প্রতারণা করেছে আমরা প্রশাসনিকভাবে এর বিচার চাই।
অন্যদিকে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জনের সাথে কথা হলে তারা জানান, আহচান উল্যা অনেক চতুর মানুষ। বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে যেটা করেছে সেটা ডাকাতির সামিল। গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকার কথা না বলতে আহচান উল্লা বিভিন্ন অপকৌশল করে কিছু গ্রাহক থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে মুখ খুললে তাদের মিথ্যে মামলা ও বিদ্যুৎ দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয় জানতে চাইলে আহচান উল্যা টাকা নেয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, অফিসিয়াল কিছু খরচের জন্য আমি টাকা নিয়েছি। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা নেইনি।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মিটার হোক অথবা পিলার হোক এসবে অতিরিক্ত কোন টাকা লাগে না এবং কোন টেবিলেও কোন খরচ দিতে হয় না। শুধু বিদ্যুতের প্রয়োজন হলে দরখাস্ত করলে ৪৫০ টাকা জমা দিলেই গ্রাহক মিটার পেয়ে যাবেন। তিনি এ প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন, যাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে তারা যেন কোন দালালের কাছে না গিয়ে সরাসরি অফিসে আসে।
