সাচারে খাল দখল করে প্রভাবশালীদের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ

বছরজুড়ে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

 সাচার বাজারসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়বে
 সেচ ব্যবস্থা ব্যাঘাতসহ ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
 খালের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াবে
 ইতোমধ্যে খালটি দুই-তৃতীয়াংশ ভরাট হয়ে গেছে

মো. ফয়সাল আহম্মেদ
কচুয়ার সাচার বাজারের সরকারি খাল দখল করে দখলদারীরা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে সারা বছর জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কচুয়ার যে তিনটি বাণিজ্যিক স্পট রয়েছে তার মধ্যে সাচার বাজার অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকে রয়েছে এই বাজারের অনেক ঐতিহ্য। প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার বেশি দেনদেন হয় এই বাজারে। বাজারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি পানি নিষ্কাশনের প্রধান ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এই খালটি গিয়ে মিশেছে সাচার বাজারের উত্তরে ক্ষিরাই খালে। এক সময়ের প্রবাহমান এই খালটি দখলদারদের বেদখলের কারণে এখন প্রায় সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাচার দক্ষিণ বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ে মানুষের দৃষ্টি সড়ানোর জন্য রাস্তার পাশে উঁচু করে মুলির বেড়া (বাঁশের বেড়া বিশেষ) দিয়ে খালের মাঝ বরাবর ৬টি কলামের রড বাঁধাই করা প্রায় শেষ। এখন শুধু ডালাইয়ের অপেক্ষায় আছে। জানা গেছে, এখানে নির্মিত হবে পাঁচ তলা বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। প্রায় ডজনখানেক নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছেন খালের পারে বিভিন্ন স্থানে। কেউবা রড বাঁধাই করছেন আবার কেউবা খালের দক্ষিণ পাড়ে বাঁকা রড সোজা করছেন। আবার অনেকেই ব্যস্ত কাঠে পেরেগ মারা ও সাটারিং ঠিকঠাক করায়। ইতোমধ্যে কলামের গোরায় মাটি ভরাট করাও শেষ। এতে করে পুরো খালটি দুই-তৃতীয়াংশ দখল হয়ে গেলো।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রবাহমান এই খাল দখল করে স্থাপনাটি নির্মাণ করছেন সাচার তালুকদার বাড়ির মিন্নত আলী তালুকদারের ভাগিনা মো. কবির হোসেন। কবির হোসেনের বাড়ি পার্শ^বর্তী দাউদকান্দি উপজেলার ওলানখোলা গ্রামে হলেও মামা মিন্নত আলী তালুকদারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ ধরনের অপর্কম করে যাচ্ছেন। মিন্নত আলী মেম্বারের আরো বড় পরিচয় হলো তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ২০২২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেও হেরে যান। তাছাড়া বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মামার ক্ষমতা দেখিয়ে কবির এ ধরনের কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাচার বাজারের কয়েকজন বয়স্ক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের কারণে এই সাচার বাজারের খালটি দখল হয়ে যাচ্ছে। বাজারের দক্ষিণে ফসলের মাঠের পানিও এই খালের মাধ্যমে নিষ্কাশন হয়। একসময় সাচার বাজারের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রধানতঃ এই খাল দিয়ে নৌকায় করে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসতো বাজারে বিক্রির উদ্দেশে। আজ সেটা দখলের কারণে একটি ড্রনের মত হয়ে গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন করে বলেন, এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে সাচার বাজারসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধাতা বাড়বে। একসময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই খালটি। যা কখনই সুখকর হবে না কারো জন্যই বলে দাবি করেন তারা।
এলাকার সচেতল মহলের দাবি, প্রশাসন দখলদারদের উচ্ছেদ করে একটি নজির স্থাপন করে। যাতে করে আর কেই এ ধরনের সরকারি খাল দখলের সাহস না পায়।
খাল দখল করে ভবন নির্মাণকারী মো. কবির হোসেন বলেন, আমি এখানে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিল্ডিং করছি। এটি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এখানে কোন সরকারি খালের উপর বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে না। আর আমার সরকারি খাল দখল করার কোন ইচ্ছে নেই।
সাচার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, এভাবে খাল দখল হয়ে যাওয়া কোনভাবে কাম্য নয়। আমি আমার স্থান থেকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, অচিরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

২৫ মার্চ, ২০২৩।