সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার ইন্তেকাল

চাঁদপুরে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা



স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে কেন্দ্রিয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য, চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়াকে। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাঁকে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাদআছর হাসান আলী স্কুল মাঠে প্রথম জানাযায় ইমামতি করেন গাছতলা দরবার শরীফের পীর খাজা অলিউল্ল্যাহ।
দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নিজ বাড়ি গুণরাজদী ভূঁইয়া বাড়ি প্রাঙ্গণে এবং তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাত ১০টায় রহমতপুর কলোনীতে। তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে তাঁকে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে চাঁদপুর প্রিমিয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে………..রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো প্রায় ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বাদ আছর হাসান আলী স্কুল মাঠে জানাজায় অংশ নিতে বিকেল ৩টা থেকে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে। এজন্য প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ঢল। বিকাল ৪টা বাজতেই হাসান আলী মাঠ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মুসল্লিরা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, মহিলা কলেজ রোড ও রেললাইনে দাঁড়িয়ে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।
মরহুমের জীবনকর্মের স্মৃতিচারণে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. সেলিম উল্যাহ সেলিম ও দেওয়ান শফিকুজ্জামানের পরিচালনায় জানাযার আগে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, প্রচার সম্পাদক সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন এ্যানি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির পক্ষে তাঁর বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি এসএ সুলতান টিটু, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান গনি পাটওয়ারী, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সফিউদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মাস্টার প্রমুখ। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামাতা লে. কর্নেল মনোয়ার হাসান।
এসময় মরহুমের স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন দলের নিবেদিতপ্রাণ। দুঃসময়ে তিনি দলের নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে রাজনীতি করেছেন। তার মতো এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবার কবে আসবে তা কেউ জানেন না। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
এদিকে সকালেই শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবরে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো চাঁদপুর শহর। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে শহরের ট্রাক ঘাটস্থ নিজ বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। শফিক ভূইয়ার আকস্মিক মৃত্যু যেনো কেউ মেনে নিতে পারছিল না। নেতাকর্মীদের চোখের জল আর আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। ভোরবেলা শফিক ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে তার নিজ বাসভবনে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল।
উল্লেখ্য, আগামি ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও ধানের শীষ প্রার্থী শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন মেয়র পদে নির্বাচন বাতিল করেছেন। তবে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শফিকুর রহমান ভূঁইয়া দীর্ঘ ৩ যুগ ধরে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেন্দ্রিয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসা চাঁদপুরের বিএনপির রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ে অবসান ঘটিয়ে গেলো ২৩ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলা বিএনপিতে ঐক্যের চাঁদ উঠে। ওইদিনের এক সভায় শফিকুর রহমান ভূঁইয়াকে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।