হাজীগঞ্জের স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনায় শোকের মাতম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে হাজীগঞ্জের দু’জন রয়েছেন। তারা হলেন- মজিবুর রহমান (৫২) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২)। মজিবুর রহমান উপজেলার রাজারাগাঁও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী মৃত আ. জলিলের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম এবং ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উদয়ন এক্সপ্রেসের দু’টি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
নিহত মজিবুর রহমান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় হার্ডওয়্যার মালামালের ব্যবসা করতেন। এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম বাড়ি (হাজীগঞ্জ) থেকে শ্রীমঙ্গল যান। বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে রেলপথে উদয়ন এক্সপ্রেসে ট্রেনে উঠেন মজিবুর রহমান। উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কসবায় মন্দবাগ রেলস্টেশনে আসা মাত্রই আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মজিবুর রহমান ও কুলসুমা বেগম।
ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে দেখতে এসেছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও এলাকার মো. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি দুর্ঘটনাস্থল দেখার পর নিহতের মরদেহ দেখতে কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে বিদ্যালয়ের বারান্দায় নিজের নিজের চাচা মজিবুর রহমান ও চাচি কুলসুমার মরদেহ দেখতে পান। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ফোন দিয়ে নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
নিহত দম্পতির ছোট ছেলে ইয়াসমিন (১৬) জানান, বাবা শ্রীমঙ্গল স্টেশন বাজারে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করতেন। কিছুদিন আগে বাবার কাছে মা বেড়াতে যান। গতকাল মঙ্গলবার বাবা ও মায়ের বাড়িতে আসার কথা ছিল। গতরাত (সোমবার) সাড়ে ৯টার দিকে বাবা-মায়ের সাথে আমার শেষ কথা হয়। এরপর আমি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ৩টার সময় ফোনে খবর পাই, ট্রেন দুর্ঘটায় বাবা-মা দু’জনেই মারা গেছেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, নিহতের পরিবার ও ওই বাড়িসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। নিতহের ছোট ছেলে, পুত্রবধূ ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। স্থানীয় সংবাদকর্মী এবং স্থানীয় ও এলাকাবাসীসহ দূর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন ওই বাড়িতে। নিহদের মরদেহ বাড়িতে আনার উদ্দেশে ভোরেই নিহতের বোনের দুই ছেলে কাউসার আর সবুজ ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গেছেন।
এ বিষয়ে রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাদী জানান, নিহত দম্পতি আমার এলাকার বাসিন্দা। তাদের সহায়তার জন্য আমার যা করণীয়, আমি তাই করবো। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে।