হাজীগঞ্জে আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন প্রতিবন্ধী আনু

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ভিক্ষাবৃত্তি না করে মাত্র ৫ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু। সততা এবং দক্ষতা আর ক্রেতাদের ভালোবাসায়, তিলে তিলে গড়ে ওঠা সেই ব্যবসা ৩০ লাখ টাকার সম্পদে উন্নীত হয়। কিন্তু এক রাতেই ৩০ লাখ টাকার পুঁজি শূন্যতে নেমে আসে। নিঃস্ব হয়ে যান তিনি।
বলছি, হাজীগঞ্জের শারীরিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন আনুর কথা। তিনি উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মালীগাঁও বাজারের প্রতিষ্ঠিত কাপড়ের ব্যবসায়ী। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোররাতে আগুনে তার সাদিয়া ভ্যারাইটিজ এন্ড ক্লথ স্টোর নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পুড়ে যায়। এতে দোকানের সব মালামাল পুড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার হোসেন আনু মালীগাঁও গ্রামের হাজি বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। ৯ বছর বয়সেই দুর্ঘটনায় পা হারান আনু। এরপর থেকেই প্লাস্টিকের পা দিয়ে চলাফেরা করেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন আনু জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দোকার বন্ধ করে তিনি বাড়ি যান। শুক্রবার ভোরে খবর পান তার দোকান পুড়ে গেছে।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাপড়, ২ লাখ টাকার জুতা, ২ লাখ টাকার কসমেটিক্স, ১টি সেলাই মেশিন ও দোকানের আসবাবপত্রসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ ও ইব্রাহীম জানান, ভোরবেলায় (শুক্রবার) সাদিয়া ভ্যারাইটিজ এন্ড ক্লথ স্টোরে আগুন জ্বলতে দেখে দোকানের মালিক ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। কিন্তু ফায়ার ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আনু শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আগুনে সে নিঃস্ব হয়ে গেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি, বলে তিনি জানান।
৪ অক্টোবর, ২০২০।