
হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে আটক ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক ইমন চৌধুরী (৫০) কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে রোগী সাজিয়ে এ ভুয়া চিকিৎসককে ধরলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন। হাজীগঞ্জ বাজারের বিশ্ব রোডস্থ নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক নামধারী ইমন চৌধুরীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ইমন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তিনি চিকিৎসকের পাশাপাশি হাসপাতালে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ইমন চৌধুরী ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন বলে দাবি করলেও চক্ষু চিকিৎসক সংক্রান্ত কোন সনদপত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, ইমন চৌধুরী একজন ভুয়া চিকিৎসক হিসাবে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানতে পারে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের একজন সদস্যকে রোগী সাজিয়ে নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভুয়া চিকিৎসক ইমন চৌধুরী তার বাম চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অপারেশনের কথা বলেন। অথচ তার চোখে কোন ধরনের সমস্যা ছিল না।
এ সময় হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমান থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফজাল হোসেন ফোর্স নিয়ে হাসপাতলে হানা দেন। তিনি ইমন চৌধুরী চক্ষু চিকিৎসক সংক্রান্ত সনদপত্রসহ দেখতে চান। কিন্তু ওই চিকিৎসক নামধারী ইমন চৌধুরী চিকিৎসকের কোন সনদপত্রসহ দেখাতে পারেননি। পরে তাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুজ্জামান ও সুমন আহমেদসহ গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, ইমন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবার নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। তার বাস্তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন সনদপত্র নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে দু’জন ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আটক করে পুলিশ।
২৫ জুলাই, ২০১৯।
