মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে আবারো বেড়েছে পেঁঁয়াজের দাম। দু’একদিন কিছুটা কমে বিক্রি হলেও আবারো ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। যদিও বিদেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। কিন্তু এ পেঁয়াজ সাইজে বড় এবং স্বাদে কিছু পার্থক্য থাকায় বিক্রি হচ্ছে একেবারে কম। যার ফলে এখনো সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি, নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ উঠলে হাজীগঞ্জসহ জেলার কোথাও এ পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই সুযোগে দেশি পেঁয়াজের দাম ফের বেড়েছে বলে সচেতন ভোক্তাদের অভিযোগ। গত রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার হাজীগঞ্জ বাজারসহ গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ১৯০-২০০ টাকা কেজি দরে এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ পাইকারি দরে প্রতি কেজি ১৭৫-১৮৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৫০-১৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যে লেবার খরছ, পঁচাসহ ঘাটতি থাকে। সব মিলে প্রতি কেজিতে আরো ৫-১০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। যার ফলে দেশি পেঁয়াজ ১৮০-১৯০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গ্রামের বাজার এবং পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে কেজি প্রতি আরো ৫-১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে অনেক ব্যবসায়ী এবং পাড়া-মহল্লার দোকানদার পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, একদিকে দাম বেশি, অন্যদিকে বিক্রি একেবারেই কম। তাছাড়া দোকানে বেশিদিন পড়ে থাকলে, পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায় এবং শুকিয়ে যায়। এতে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয় এবং বিক্রিতে লস হয়। তাই অনেক ব্যবসায়ী ও দোকানদার পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মাস ধরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে এর দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠিয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যে কারণে সরকার মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। যা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু আশানুরূপভাবে কমছে না পেঁয়াজের দাম।
দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদফতর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার তদারকিতে নেমেছে। কিন্তু তারপরও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। যার ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে রয়েছে পেঁয়াজ। বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা। এতে করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তারা। যদিও অনেকে পেঁয়াজের ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।
