মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
অবশেষে বসতঘর পেলেন অসহায় বৃদ্ধা অহিদা বেগম। চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের নির্দেশনায় এবং হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজীসহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় ঘটনার তিন দিন পর তাকে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের জাকনী গ্রামের বেপারি বাড়িতে অসহায় বৃদ্ধা অহিদা বেগমের বসতঘর ভেঙে রাস্তায় ফেলে দেয় তারই ভাসুরের ছেলে আবুল খায়ের গংদের ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের নজরে আসে। তিনি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হাজীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশনা দেন।
এরপর গত রোববার (২৩ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন থানার উপ-পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা অহিদা বেগম এবং তার ছেলেকে থানায় নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আবুল খায়ের গং অসহায় বৃদ্ধা অহিদা বেগমের ভিটায় ভাংচুরকৃত সেই বসতঘর নতুন করে নির্মাণ করে দেন।
এদিকে ওই ভুক্তভোগী অসহায় বৃদ্ধা অহিদা বেগমের ছেলে বাচ্চু মিয়ার মোবাইল ফোনে আবুল খায়েরের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ধেররা গ্রামের দাস বাড়ির তাপস দাস মামলা না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত তাপস দাসকে সরেজমিন না পাওয়ায় এবং তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতে না পারায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ফেসবুকে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি দেখে তাৎক্ষণিক আমাদের বিষয়টি দেখার নির্দেশনা প্রদান করেন। আমরা এর সত্যতা যাচাই করে দেখি, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে অন্যায়ভাবে অসহায় বৃদ্ধার বসতঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে যারা ঘরটি ভেঙেছে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতে সেই ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য বলা হলে অভিযুক্তরা আজ (সোমবার) বৃদ্ধার ঘর পুনরায় নির্মাণ করে দেয়। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
২৫ মে, ২০২১।
