হাজীগঞ্জে দখলবাজদের ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজাস্থ বিশ্বরোড চৌরাস্তায় রাতের আধাঁরে দখল হয়ে যাওয়া যাত্রী ছাউনিটি দখল ছাড়তে ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকালে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে দখলদাবাজদের এই সময় বেঁধে নেন। এর মধ্যে দখল না ছাড়লে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এছাড়া যাত্রী ছাউনির সামনে ফুটপাত দখলে রাখা ব্যবসায়ীদের ফুটপাতের দখল ছাড়তে ৪ দিন সময় বেঁধে দেন। এ বিষয়ে তদারকিকরণে তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রাব্বীকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এ ঘটনায় যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন তাদেরও ক্ষমা করেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতের আঁধারে নতুন সাঁটার লাগিয়ে যাত্রী ছাউনিটি কে বা কারা দখলে দখলে নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রথম পাতায় ‘হাজীগঞ্জে রাতের আঁধারে জেলা পরিষদের যাত্রী ছাউনি দখল, ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী।
পরিদর্শন শেষে সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, যেকোন অনিয়ম কর্মকাণ্ডে সাংবাদিক ভাইয়েরা স্বোচ্চার। যার প্রমাণ এই যাত্রী ছাউনি। আমি চিকিৎসার কাছে ঢাকায় ছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ঢাকা থেকে ফিরে আসি। এই কাজটি (দখল) যেই করেছে, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এটি দখলে রাখা যাবে না, যাত্রী ছাউনি যাত্রীরাই ব্যবহার করবে এবং তা দখলমুক্ত করে সংস্কার করা হবে।
দখলবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যে বা যারাই হোন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিলাম, এর মধ্যে দখল ছাড়বেন, নইলে আপনাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি যাত্রী ছাউনির সামনে ফুটপাত দখলে রাখা ব্যবসায়ীদেরও ৪ দিন সময় দেন, যেন দখলে রাখা ফুটপাত খালি করে দেন। বিষয়টি তদারকীর (সহযোগিতা) জন্য তিনি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বীকে আহবান জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুক আপনার, স্বাধীনতাও আপনার। তবে ঘটনার সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোন কিছু লেখা ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে কারো বিরুদ্ধে লিখার আগে আপনারা আমার সাথে যোগাযোগ করতেন অথবা আমার বক্তব্য নিতেন। আমরা ব্যর্থ হলে, আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে লিখতেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ দেশ প্রচলিত আরো আইন আছে। কিন্তু আমরা সেদিকে না গিয়ে আপনাদের নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করে দিলাম।
সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের প্রশংসা করে আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, স্যার (সাংসদ) পরম শ্রদ্ধেয় একজন গুণী ব্যক্তিত্ব। তিনি চাঁদপুরবাসীর গর্ব। আমি দখল ও অপপ্রচারের বিষয়ে স্যারের (সাংসদ) সাথে কথা বলেছি। তিনি নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে আমি এখনি কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো না। সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে আপনারা দখল ছেড়ে দিন, নইলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তাসহ পৌর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সোহেল আলম বেপারী, উপজেলা যুবলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

১৬ জুলাই, ২০২১।