মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারিতে ১১৬ জন মা সন্তান প্রসব করেছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অক্টোবর মাসে উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে মায়েরা তাদের সন্তান প্রসব করেন। গতকাল রোববার গর্ভবতী মাদের নরমাল ডেলিভারী কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে এক উদ্বুদ্ধকরণ সভায় এ তথ্য জানান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা।
‘আর কোন ভাবনা নয়, নরমাল ডেলিভারী সবসময়’ এই শ্লোগানে এদিন সকালে উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় দুই শতাধিক গর্ভবতী মায়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমাদের দেশে আশংকাজনক হারে সিজারিয়ান প্রসব বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে মা ও শিশুর শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ওই পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন।
কিছু ক্ষেত্রে সিজারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ সন্তান প্রসবে নরমাল ডেলিভারীর বিকল্প নেই। তাই সন্তান গর্ভে থাকাকালীন নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। এখন আপনার হাতের কাছেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নরমাল প্রসবের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আসুন আপনারা সঠিক সেবা গ্রহণ করুন। এ সময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়ার সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার ডা. মঈনুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন ইউপি সদস্য ইসমাঈল শেখ।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় উদ্বুদ্ধকরণ সভায় ইউনিয়ন কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তানজিনা আক্তার, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. হানিফ পাটোয়ারীসহ রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য এবং ওই ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গর্ভবর্তী মা ও তাদের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গর্ভবতী মাদের প্রসবকালীন জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পেতে এবং মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকি এড়াতে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ব্যবস্থা এবং প্রসবোত্তর সেবা কার্যক্রম জোরদারকরণে ২০১৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ‘নিরাপদ মাতৃত্বে আমরা সবাই’ নামক একটি ইনোভেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।
