হাজীগঞ্জে নিহত মুয়াজ্জিনের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও’র স্ত্রী

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সহকারী ইমাম (মুয়াজ্জিন) পারিবারিক বিরোধের জেরে নিহত মো. সেলিম হোসেনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী ডা. কামরুন্নাহার। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সকালে তাঁর স্ত্রীর পক্ষে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ টাক ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন তিনি।
জানা গেছে, নিহত মুয়াজ্জিনের পরিবারের অসহায়ত্বের কথা শুনে ইউএনও মো. রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী ডা. কামরুন্নাহার তাদের পাশে দাঁড়ান। তাই এ দিন তার পক্ষে মো. রাশেদুল ইসলাম ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিহতের পরিবারের হাতে নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। এসময় তিনি তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়কালে হাটিলা পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন ডা. কামরুন্নাহারের পক্ষে নিহতের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ২৫ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২৪ টা ডিম, ২ কেজি গরুর গোস্ত, ৩টা মুরগি, ৩ কেজি পেঁয়াজ, আধা কেজি আঁদা, আধা কেজি রসুন, ২ কেজি লবণ, ২ কেজি চিনি, জিরাসহ রান্নার সবধরনের মসলা, আধা কেজি গুঁড়ো দুধ, সেমাই, দুই ধরনের সাবানসহ অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দেন ইউএনও।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাঁড়িয়াইন গ্রামের নতুন মিজি বাড়িতে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে বড় ভাই নজরুল ইসলাম ও ছোট ভাই মো. সেলিম হোসেনের সালিসি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। নজরুল ইসলামের পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ সালিসি বৈঠকে উপস্থিত হলেও সেলিমের পক্ষের লোকজন সময়মতো না আসায় বৈঠকের কিছুটা দেরী হয়।
এর মধ্যে নজরুল ইসলাম ও মো. সেলিমের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে দু’জনেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় আহত নজরুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। নিহত মো. সেলিম হোসেন স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় পড়ে।

৩০ এপ্রিল, ২০২২।