মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর উপর উটতলী খেয়াঘাট সেতু নির্মাণ কাজে নিয়োজিত নৈশপ্রহরী (পাহারাদার) হারুন অর রশিদের (৫০) রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেয় পুলিশ। মারা যাওয়া ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের বন্দে আলী মিস্ত্রি বাড়ির মৃত আলী আহম্মদ আমুর ছেলে।
জানা গেছে, সম্প্রতি হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের ও বহুল প্রতীক্ষিত ডাকাতিয়া নদীর উপর উটতলী খেয়াঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর গত সপ্তাহে নৈশপ্রহরী হিসাবে কাজে যোগ দেন হারুন অর রশিদ। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় তাকে কাজের স্থল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্বজনরা সংবাদকর্মীদের জানান, হারুন অর রশিদ উটতলী খেয়াঘাটের সেতুর নির্মাণ কাজের মালামাল রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে নৈশপ্রহরীর কাজ নেন। প্রতিদিনের মতো তিনি শনিবার বিকাল বেলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজের স্থলে যান। পরে সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি। তারা আরো জানান, হারুন অর রশিদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে সেতু সংশ্লিষ্ট লোকজন সংবাদকর্মীদের জানান, হারুন অর রশিদ হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থায় অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সময় শার্টারের সাথে লেগে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে সেতু নির্মাণ কাজের স্থল থেকে মেশিনের ২টা ব্যাটারী এবং প্রায় ৩০ লিটার তেল চুরি হয়েছে। এরপর থেকে হারুন অর রশিদকে নৈশপ্রহরী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।
সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আউয়াল হোসেন বলেন, তিনি (হারুন অর রশিদ) হঠাৎ করে স্ট্রোক করে মারা যান। স্ট্রোক করার সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সময় মাথায় শার্টারের আঘাত পান। এখানে অন্য কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আনা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
