বিদ্রোহী ৮ প্রার্থীর মধ্যে জিতে গেলেন ২ যুবলীগ নেতা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে পদ হারানো (বহিষ্কৃত) উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ ৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেন এবং অপর দুই বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দলীয় পদধারীসহ এবং দলীয় সমর্থক ৬ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পরাজিত হন।
তারা হলেন- রাজারগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিক পাটওয়ারী, কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী, হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক চশমা প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন মিয়াজী।
গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আনারস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, একই ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান চশমা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইউনুছ মিয়া, হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (এম আলী মুজিব)।
উল্লেখিত ৬ জন বিদ্রোহীর মধ্যে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী স্বতন্ত্র (বিএনপি নেতা) প্রার্থী এবং অন্য ৫ জন দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে দুই বিজয়ী প্রার্থী হলেন- হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন (পূর্ব) যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকের প্রার্থী ইউসুফ প্রধানীয় সুমন ও বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকের প্রার্থী মজিবুর রহমান মজিব। তারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজারগাঁও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া ৫,৭৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত ও আনারস প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মো. রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী ৪,৬৬৪ ভোট (দ্বিতীয়) পরাজিত হয়েছেন।
কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র (বিএনপি নেতা) প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন ৮,৯১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন মিকন ৪,৮৪৭ ভোট (দ্বিতীয়) ও আনারস প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) ১০৬ ভোট (চতুর্থ) পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে মো. মোস্তফা কামাল মজুমদার ৩,৫৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত ও চশমা প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সোহরাব হোসেন মিয়াজী ৩,২৩৯ ভোট (তৃতীয়) পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী নুরুর রহমান বেলাল ৫,৭১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এবং আনারস প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) রফিকুল ইসলাম ৪,২৮১ ভোট (দ্বিতীয়) ও চশমা প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) ২৯ ভোট পেয়ে পরাজিত (পঞ্চম) হয়েছেন।
হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতীকে ইউসুফ প্রধানীয়া সমুন ৯,৯০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর ৫,৪৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত (দ্বিতীয়) হয়েছেন।
বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতীকে ৬,১১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আহসান হাবিব ৪,২১২ ভোট পেয়ে পরাজিত (দ্বিতীয়) হয়েছেন।
হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একেএম মজিবুর রহমান মজুমদার ৪,৮৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত ও বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মোটরসাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ আলী (এম আলী মুজিব) ৩১৯ ভোট পেয়ে পরাজিত (তৃতীয়) হয়েছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন মিয়াজী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাদের দুইজনকে গত ১৭ ডিসেম্বর দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ।
বহিষ্কার পত্রে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি প্রেরিত পত্রের আলোকে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠণতন্ত্রের ৪৭ ধারার (ঠ) উপধারা মোতাবেক তাদের বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে তারা দলীয় পদে পরিচয় প্রদান করতে পারবে না বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
তবে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হলেও যুবলীগ নেতাদের বহিষ্কার করা হয়নি বলে জানা গেছে। অপর ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমানে কোন পদ-পদবী না থাকলেও তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং এদের মধ্যে কেউ অতীতে দলীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পদবী বা সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩০ ডিসেম্বর, ২০২১।
