সফল হয়নি বাস কর্তৃপক্ষের সমঝোতার চেষ্টা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে বোগদাদ পরিবহনের একটি বাস চাপায় নিহত কুমিল্লার তিন যুবকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে কুমিল্লা জেলার চান্দিনার পৌরসভাধীন ১নং ওয়ার্ড বেলাশ^র এলাকায় জানাযা শেষে নিহতদের নিজ-নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ দিন দুপুরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তিনজনের মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে মো. খোরশেদ আলম শুক্রবার রাতে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (নং-২৭৯/৩০৪-খ) দায়ের করেন। অভিযোগে বাসের চালক কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার হালগাঁও গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৫) ও সহকারী চালক (হেলপার) অজ্ঞাত ঠিকানার মো. রিপন (৩০) কে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন চালককে আটক করে পুলিশ।
গতকাল শনিবার বিকালে চালক আব্দুর রাজ্জাককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ধেররা সিএনজি পাম্প সংলগ্ন এলাকার ভাইয়া সুপার মার্কেটের সামনে বোগদাদ বাস চাপায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীসহ তিনজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- কুমিল্লা জেলার চান্দিনা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বেলাশ্বর এলাকার মৃধা বাড়ির মো. আব্দুল কাদেরের মেঝো ছেলে মো. মনির হোসেন (৩৭), একই এলাকার হাজি বাড়ির তাজুল ইসলামের বড় ছেলে মো. সোহাগ হোসেন (২৮) ও একই বাড়ির মো. মজনু মিয়ার বড় ছেলে মো. সুজন হোসেন (২৬)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুরে তারা ৬ জন দুই মোটরসাইকেল যোগে নিজ এলাকা চান্দিনা থেকে মোহনপুরে যাচ্ছিলেন। পথে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ধেররায় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা কুমিল্লাগামী বোগদাদ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪৫) তাদের সাথে থাকা অপর মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে করে মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-১৭-৫২৭৪) থেকে সড়কেই ছিটকে পড়েন চালকসহ দুই আরোহী। ফলে মোটরসাইকেলটি অক্ষত থাকলেও চালক মো. সুজন হোসেন, আরোহী মো. মনির হোসেন ও মো. সোহাগ হোসেনের উপর দিয়ে বাসটি চলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাস চাপায় সুজন ও সোহাগের মাথা থেঁতলে এবং মনিরের বুকের উপর দিয়ে যাওয়ার কারণে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর সড়কের দু’দিকে শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মো. জয়নাল আবেদীন নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। এরপর নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে মোটরসাইকেলটি চাপা দিয়ে চালক ঘাতক বাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ বাসটিকে তাড়া করে হাজীগঞ্জ বাজারে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় চালক আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে স্থানীয়রা। তবে সহকারী চালক মো. রিপন পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে এদিন বিকালে নিহতদের স্বজন, বোগদাদ পরিবহন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ঘাতক বাসের মালিক পক্ষের লোকজন হাজীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন। নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বোগদাদ বাসের মালিক ও সমিতির পক্ষ থেকে সমঝোতার চেষ্টা করলেও পরে তা হয়নি। যার ফলে ওইদিন রাতেই নিহত সুজনের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওইদিন (শুক্রবার) আটক চালক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কুমিল্লামুখী (হাজীগঞ্জগামী) তাদের বাসটি (বোগদাদ) চলন্ত অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে চলমান চাঁদপুরগামী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করার সময় মোটরসাইকেলটি তাদের বাসের সম্মুখে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, নিহত ৩ জনের সুরতহাল রিপোর্ট ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বাস ও চালককে আটক এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি থানা হেফাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহত সুজনের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
০৫ ডিসেম্বর, ২০২১।
