
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
হাজীগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগের (বঙ্গোপসাগরের নি¤œচাপ) কারণে হাজীগঞ্জের কুঁচির বিলে শত শত একর জমির রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। বিএডিসি’র ভুল বাঁধ ও চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের কারণে কয়েক হাজার কৃষকের এ সর্বনাশ হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
কুচির বিল ও এর আশ-পাশে ঘুরে দেখা যায়, শত শত একর জমির আলু, শষা, খিরা, মিস্টি কুমড়া, ধান বীজ, সদ্য রোপণকৃত বিভিন্ন বীজের জমি হাঁটু পানিতে তলিতে রয়েছে। কৃষকরা যার যার মতো করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন।
মাঠ পরিদর্শনকালে নুর মোহাম্মদ একজন কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমি ১ একর জমিতে আলু, মিষ্টি কুমড়া ও খিরা চাষ করেছি। সবগুলোই এখন পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমার সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে।
একই বিলের কৃষক আ. রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪ দিন বৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কাজ করেছে। কিন্তু পরামর্শ দেয়ার জন্য একজন কৃষি কর্মকর্তাকে দেখা যায় নাই। একই এলাকার বাসার, নজরুল, বাহাউদ্দিন, শাহাদাত, ইয়াছিন, জহির, মনির, বিল্লাল, শাহজাহান, আল-আমিনসহ কয়েক শতাধিক কৃষক দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বলাখাল বাজারের প্রভাবশালী লোকমান হোসেন মুন্সি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বলাখাল বাজার সংলগ্ন কুচির বীলের খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে রেখেছে। এ বিষয় তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে লোকমান হোসেন মুন্সীর কাজের তদারককারী মানিক হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লোকমান হোসেন মুন্সির ভাগিনা পরিচয় দিয়ে বলেন, আমরা সড়ক ও জনপথ অফিস থেকে অনুমোদন নিয়ে খালে বাঁধ দিয়েছি। কিন্তু তারা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে তিনি বলেন, কাগজপত্র প্রসেস করার জন্য অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন দেয়ার আগে কিভাবে খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব থাকেন।
অপরদিকে কুচির বিল খালের মধ্যে বলাখাল রামচন্দ্রপুর সড়কের পশ্চিম পাশে বাঁধ নির্মাণ করেছে বিএডিসি। তাদের বাঁধের কারণেও পানি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই ৩টি বাঁধ অপসারণ করা না হলে কৃষকের ফসল সবই শেষ হয়ে যাবে।
কৃষি বিভাগের পৌরসভার ব্লক সুপারভাইজার স্বপন চন্দ্র চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নিয়মিতভাবেই মাঠ ভিজিট করি। তবে কৃষকরা তার এ কথার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি মাঝে মাঝে মাঠ ভিজিটে আসেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৈশাখী বড়–য়া বলেন, বিষয়টি আমি জানার পরই বিএডিসির সাথে কথা বলেছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আলী আহাম্মদ জানান, বৃষ্টিতে আলুসহ যেসব ফসলের ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
