হাজীগঞ্জে বিধবা তরুণীকে রাতভর দলবেধে ধর্ষণ, আটক ২

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে বিধবা এক তরুণীকে (২০) রাতভর দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ মে) আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ এবং ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করা হয়। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামে ও হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বৈষ্ণব বাড়ি এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আটক আসামিরা হলেন- উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের মাঝি বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. মহিন উদ্দিন (২৬) ও একই বাড়ির মো. দুলাল মিয়াজীর ছেলে মো. শাকিল হোসেন (২৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দী দিয়েছে বলে জানিয়েছেন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সোমবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং- ১৯/১৪৫) দায়ের করেন ওই তরুণী। মামলার অপর আসামিরা হলেন- হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমূড়া গ্রামের শুকু কমিশনার বাড়ির ইউসুফের ছেলে মো. ইসমাঈল হোসেন (৩২) ও মো. কালু মিয়া (২১)। ঘটনার পর থেকে তারা দুইজন পলাতক রয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার জয়শরা গ্রামের বিধবা তরুণী গত শনিবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার ‘নদী বাড়ি’ ক্যাফেতে ঘুরতে এসে স্থানীয় শাকিল হোসেনের সাথে পরিচয় হয়। পরে দিনভর ক্যাফেতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ওই ক্যাফে এলাকায়ই ঘোরাফেরা করেন। এ সময় শাকিলের বন্ধু হিসেবে মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. মহিন উদ্দিন ও মো. কালু মিয়ার সাথে পরিচয় হয় ওই তরুণীর।
এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলে ওই তরুণী বাড়ি যেতে চাইলে মো. শাকিল হোসেন ও তার সহযোগীরা কৌশলে পৌরসভাধীন রান্ধুনীমূড়া গ্রামের বৈষ্ণব বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বালুর মাঠে নিয়ে দলবেধে ধর্ষণ করে। একই রাতে ওই তরুণীকে নোয়াদ্দা গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে আবারো তারা দলবেধে ধর্ষণ করে রোববার সকাল ১১টায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের পাশে বালুর মাঠে রেখে ধর্ষণকারীরা চলে যায়।
এ সময় ধর্ষণের শিকার তরুণীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সংবাদকর্মী ও থানায় ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদের দিক-নির্দেশনায় এবং থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মহিন উদ্দিন ও শাকিল হোসেনকে আটক করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
এ ব্যাপারে থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারী ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় মামলার ২নং ও ৪নং আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ এবং ওই নারীর মেডিকলে রিপোর্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

২৫ মে, ২০২১।