মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে পূজামন্ডপ ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলায় জনতার ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় সরজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান। বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিদর্শন এবং মন্দিরের পুরোহিত, পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে মো. কামরুল হাসান সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে হবে। একটি গোষ্ঠি আমাদের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বর্হিবিশে^ আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। আমরা তাদের কাউকেই ছাড় দিবো না। এক্ষেত্রে যা করার দরকার, সবকিছুই আমরা করবো, এর কোন ব্যত্যয় ঘটবে না।
ওইদিনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাজীগঞ্জে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে, এটা কেউ একদিনে বা একধাপে নষ্ট করবে, এটা হতে দেওয়া যায় না। যারা এই ঐতিহ্য ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, তাদের চিহ্নিতকরণে তদন্ত কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। এতে করে কেউ যেন অবিচারের শিকার না হয়, আমরা এর ন্যয়বিচার করবো বলে তিনি জানান।
ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে মো. কামরুল হাসান বলেন, আপনাদের পাশে আমরা আছি। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ আপনাদের পাশে আছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা এসেসমেন্ট করেছি এবং আপনারা যারা (ক্ষতিগ্রস্ত) আবেদন করেছেন তাদের আবেদন আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বক্তব্যে তিনি সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের প্রশংসা করেন।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এর আগে বিভাগীয় কমিশনারকে ওই দিনের (১৩ অক্টোবর) বিষয়ে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আহসান হাবিব অরুন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহম্মদ খসরু, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ জসিম উদ্দিন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহআলম, উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক স্বপন পাল, রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আখড়ার সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সত্য ব্রত ভদ্র মিঠুন, লিটন পালসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল ভূঁইয়া, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মির্জা শিউলী পারবিন মিলি, পৌর প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ জাহিদুল আযহার আলম, কাউন্সিলর সুমন তপাদার।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল, পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও মন্দির কমিটির লোকজন।
২৮ অক্টোবর, ২০২১।
