হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৮টি ঘর ভস্মীভূত

কোটি টাকার ক্ষতিতে নিঃস্ব ১২ পরিবার

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বসতঘরসহ ১৮টি ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম কালচোঁ গ্রামের পূর্ব পাড়া (নেছারাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার সাথে) বেপারী বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিটে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকা-ে ১০টি বসতঘরসহ রান্নাঘর, ঘোয়ালঘরসহ ১৮টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- আ. রশিদ বেপারী, বাবুল বেপারী, নুরুল আমিন বেপারী, মজিবুর রহমান বেপারী, মনির হোসেন বেপারী, সেলিম বেপারী, রফিকুল ইসলাম বেপারী, জহির বেপারী, হান্নান বেপারী, তাজুল ইসলাম বেপারী, জিতু মিয়া বেপারী ও মফিজুর রহমান বেপারী।
এদিকে অগ্নিকা-ে ১১টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। তাদের কান্না এবং আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল মান্নান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনসহ জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ৮টায় বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে হান্নান বেপারীর ঘরে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততোক্ষণে ১০টি বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরসহ ১৮টি ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এতে ঘর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, গৃহপালিত পশু, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় দমকলকর্মী আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় ১০ জন আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক খোকা ও ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ রাধা কৃষ্ণ জানান, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এতে ছোট-বড়সহ প্রায় ১৮টি ঘর পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোতালেব তালুকদার জানান, অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, এখনো আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি (এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত)। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন জানান, ভয়াবহ অগ্নিকা-ে একটি বাড়ির সব পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, স্থানীয় এবং ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানতে পারি বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘনবসতি হওয়ায় ছোট-বড় ১৮-২০টি ঘর পুড়ে গেছে। এতে ৭০-৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য রাতব্যাপী নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আগামিকাল (আজ) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো। প্রশাসন থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।