চাঁদপুরে ৩ উপজেলায় শতাধিক পাকা দালান পেলো নদীভাংতি মানুষেরা

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহায়তায়

মনিরুল ইসলাম মনির :
মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের রাবেয়া। স্বামী অসুস্থ। তেমন কোন কাজ করতে পারেন না। তাই নিজেই এর তার বাড়িতে কাজ-কর্ম করে সংসার চালান। থাকতেন অন্যের একটা ভাঙ্গা ঘরে। কলাকান্দা ইউনিয়নের সাজেদা বেগম। স্বামীর বয়স হওয়ায় কোন কাজ করতে পারে না। নিজের ঘর না থাকায় স্বামী সন্তানদের নিয়ে থাকতেন ভাইয়ের বাড়িতে। তাই নিয়ে ভাই-ভাবীর কম কথা শুনতে হয়নি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার শান্ত ও বিউটি। বয়স ১০ ও ১২। বাবা-মা দু’জনেই মারা গেছেন। দাদা একটা ছোট কুঁড়ে ঘর করে দিয়েছিলেন। সেটাও ভেঙ্গে গিয়েছিল। আজ তারা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে পাকা ঘর পেয়েছেন। আনন্দের আর সীমা নেই।
এভাবে মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচর উপজেলার ১শ’ ১১ পরিবার জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে নতুুন পাকা ঘর পেয়েছেন। এরা সবাই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। অনেকের ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে মেঘনার অতল গহ্বরে। এরা সবাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ পরিস্থিতির শিকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে গৃহহীন সকল মানুষকে আশ্রয় দানের অঙ্গীকার করেছেন। তারই প্রতিশ্রুতিতে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গঠন করেছেন। সে ট্রাস্ট থেকে হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ১শ’ ১১টি পাকা দালান নির্মাণ করা হয়েছে। মেঘনা নদী তীরবর্তী গৃহহীন মানুষদের মধ্যে গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি এ ঘরগুলোর চাবি হস্তান্তর করেন।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্প পরিচালক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কান্তি বসাক, মতলব উত্তর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব গৃহহীন মানৃষদের জন্য গৃহ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার আলোকে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে গরিবদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। ঘর একটি পরিবারের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও সন্তানদের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা সরকারি উদ্যোগে ঘর পাওয়ায় পরিবারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারবে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে মানুষ উন্নতি দেখেছে, কর্মসংস্থান দেখেছে। সরকারের উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম রিয়াজ উদ্দিন মানিক, মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শুভাশীষ ঘোষ, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, মতলব উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বোরহান উদ্দিন মিয়া, মতলব উত্তর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ প্রমুখ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পের ১শ’ ১১ গৃহ নির্মাণে খরচ হয় ৪ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং এর মধ্যে প্রতি গৃহের নির্মাণ ব্যয় ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
মতলব উত্তর উপজেলায় ৫৮টি, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ২৩টি এবং হাইমচর উপজেলায় ৩০টি গৃহ নির্মাণ করা হয়।