তীব্র তাপদাহ এবং বৃষ্টিতে পুকুরের মাছ মরে যাওয়ায়
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মাছের সংকট দেখা দেওয়ায় সব ধরনের মাছের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বিশেষ করে কম দামি মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ও বিগহেড মাছের দাম কেজি এখন প্রায় ২০০ টাকা। এতে নি¤œআয়ের লোকজনের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন সবধরনের ক্রেতারা।
তারা বলছেন, ১৫০ টাকার নিচে কোন মাছ নেই বাজারে। আগে ১০০-১৫০ টাকা হলেই মাছ কেনা যেত, আর এখন সেই মাছ কিনতে লাগে ২০০ টাকা। মাছের দাম বৃদ্ধির পেছনে তীব্র তাপদাহ এবং গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনের বৃষ্টিতে পুকুরের মাছ ব্যাপক হারে মরে যাওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে হাজীগঞ্জ বাজারের তরকারি পট্টিস্থ মাছ বাজার ও দুপুরে পৌর হকার্স মার্কেটের মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কোন মাছ নেই। অলস সময় পার করছেন আড়ৎদার ও বিক্রেতারা। অথচ এ সময় আড়ৎদারদের হাঁকডাকে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের ভীড়ে সরগরম থাকতো বাজার দু’টি। আড়ৎদাররা জানান, চাহিদার ও সরবরাহের চার ভাগের মাত্র এক ভাগ মাছ বাজারে আসছে। যার ফলে দাম চড়া।
সাধারণত অন্যান্য দিনে এক থেকে দেড়-দুই কেজি ওজনের বিগহেড ও সিলভার কার্প মাছ ১০০-১৪০ টাকা হলেও এদিন ১৬০-২২০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের কেজি গড়ে ৮০-১৩০ টাকা হলেও এদিন ১৪০-১৭০ টাকা, এক থেকে দেড়-২ কেজি ওজনের মৃগেল মাছ ১২০-১৬০ টাকা হলেও এদিন টাকা ১৮০-২৩০ টাকা, এক থেকে দেড় কেজির কার্প মাছ ১২০-১৫০ টাকা হলেও এদিন ১৮০-২৫০ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া এক থেকে দেড় থেকে কেজি ওজনের রুই মাছ ১৫০-২২০ টাকা হলেও এদিন ২০০-৩৫০ টাকা, ২-৩ কেজি ওজনের কাতল মাছের দাম ২৫০-৩০০ টাকা হলেও এদিন ৩৫০-৪০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছের কেজি ১২০-১৫০ টাকা হলেও এ দিন ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই ভাবে নদীর মাছসহ অন্যান্য মাছও বেশি দরে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে মাছের সংকট কারণ হিসাবে মাছচাষি, আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে তীব্র তাপদাহ এবং গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনের বৃষ্টিতে হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী শাহরাস্তি, কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার পুকুরগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। এতে পুকুরের মাছগুলো মরে যায়।
বিশেষ করে তীব্র তাপদাহের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে হাজীগঞ্জের প্রায় সব এলাকার পুকুরে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। আর পানিতে অক্সিজেন না পেয়ে হাঁসফাঁস করে পানির উপরিভাগে ভাসতে শুরু করে মাছগুলো। ফলে ব্যাপকহারে মাছ মরতে থাকে।
এতে বাধ্য হয়েই তাৎক্ষনিক মাছগুলো ধরে বিক্রি করে দেন চাষিরা। ওইদিন চাহিদার তুলনায় বাজারে ব্যাপকহারে মাছ আসতে থাকায় মাছের বাজারে ধস নামে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম প্রায় ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। এরপর শুক্রবার থেকে বাজারে মাছ আসা কমতে থাকে আর দামও বাড়তে থাকে।
মাছের বাজারে আসা মিঠু মিয়া, শাহআলম ও পারভীন আক্তার নামের তিনজন ক্রেতার সাথে কথা হয়। তারা বলেন, বাজারে এসে দেখি মাছের বাজার অনেকটা ফাঁকা। দামও অনেক বেশি।
চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মাছ না আসায় দাম বেড়েছে উল্লেখ করে আড়ৎদার আকতার হোসেন দুলাল বলেন, অতিরিক্ত গরমে পুকুরে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলার অনেক পুকুরে ব্যাপকহারে মাছ মরে গেছে। যার ফলে বাজারে এখন মাছ নেই।
১৪ জুন, ২০২৩।
