হাজীগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রীকে ইভটিজিংযের ঘটনায় আটক ১

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় মো. ফরহাদ হোসেন (২০) নামের এক ইভটিজারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়। এদিন সকালে ইভটিজিংয়ের শিকার ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিন ইভটিজারের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এরপর পুলিশ ফরহাদ হোসেন নামের এক ইভটিজারকে আটক করে। সে গোবিন্দপুর পাটওয়ারী বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে। অপর দুই ইভটিজার হলো- একই ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মো. সোহান (১৯) ও মো. শাহাজাদা (১৯)। গত শনিবার দুপুরে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার সামনে রাস্তায় এ ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইভটিজাররা মাদরাসায় আসা-যাওয়ার সময় ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যম অশালীন কথা বলে থাকে। এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জানানোর মাধ্যমে মিমাংসা করা হলেও ইভটিজিং বন্ধ হয়নি। সবশেষে ঘটনার দিন ইভজিটার ফরহাদ তার সঙ্গীদের সাথে নিয়ে ওই ছাত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর জানতে চায়। কিন্তু ওই ছাত্রী তার মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফরহাদ হোসেন তার সঙ্গীদের সাথে নিয়ে ছাত্রীর পরনে থাকা বোরকা নিয়ে টানা-হেঁছড়া করে তাকে শ্লীলতাহানী করে। এসময় তার ডাক-চিৎকারে লোকজন আসলে, তারা (ইভটিজার) ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় এবং যাওয়ার সময় ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দেয়।
এ বিষয়ে ছাত্রীর মা জানান, বিবাদীদের কর্মকাণ্ডে আমার মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যার ফলে আমি থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।
ইভটিজিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আবু বকর জানান, ইতোপূর্বেও ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। আমি বিষয়টি মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। স্যারের পরামর্শক্রমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, আটক ফরহাদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।