মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে হত্যার দায়ে শাহজাহান প্রধান (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী এ আদেশ দেন। এ সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০০৯ সালের ৭ জুন বিকালে নিজ বাড়িতে স্বামী শাহজাহান প্রধানের হাতে হত্যাকা-ের শিকার হন স্ত্রী ফারহানা বেগম পান্না। এ ঘটনায় ওই সময়ে ফারুক আহম্মদ পাটওয়ারী বাদী হয়ে ভগ্নিপতি শাহাজাহান প্রধানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার তদন্ত করে পুলিশের বিশেষ শাখা সিআইডি। মৃত্যু-াদেশপ্রাপ্ত শাহজাহান প্রধান হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ফারহানা বেগম পান্না ও শাহজাহান প্রধানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এরপর তাদের সংসার জীবন ভালই চলছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে থেকে শাহজাহান সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে পিতার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
এ নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। ২০০৯ সালের ৭ জুন বিকেলে নিজ বসতঘরে শাহজাহান আবারও যৌতুকের জন্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রীকে শারিরীক নির্যাতন ও তলপেটে লাথি মারে। তাৎক্ষণিক ফারহানা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় শাহজাহান ও ফারহানা দম্পতির মাহবুব (৩) নামে এক পুত্র ও মীম নামে দেড় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান ছিল। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ফারহানার ভাই ফারুক আহম্মদ পাটওয়ারী বাদী হয়ে শাহাজাহান প্রধানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপর ওই মামলাটি ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে দায়ের হলে বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন সিআইডিকে। তৎকালীন সময়ে সিআইডির এসআই মো. আলমগীর তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ শাহজাহানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে অভিযুক্ত শাহজাহান প্রধানকে মৃত্যুদ-াদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, ঘটনার পরই অভিযুক্ত শাহজাহান প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাগারেই ছিলেন।
এ বিষয়ে মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সাইয়্যেদুল ইসলাম বাবু সংবাদকর্মীদের বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এরপর সাক্ষি ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
