হাজীগঞ্জে ১শ’ টাকার জন্য ব্যবসায়ীর উপর হামলার অভিযোগ

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে মোবাইল ফোনের লোডের বকেয়া থাকা মাত্র ১শ’ টাকা হাতে কেটে রাখায় এক ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও দোকানে থাকা নগদ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের উত্তর বড়কুল গ্রামের চেয়ারম্যান মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহিম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহিম (৩২) ওই গ্রামের ঘাকরা বাড়ির মৃত আবিদ মিয়ার ছেলে। তিনি ডাকঘরের ‘নগদ’ এ চাকরি করেন এবং অবসর সময়ে ওই মার্কেটের কনফেকশনারী, ফেক্সিলোড, নগদ ও বিকাশের ব্যবসা করেন। হামলাকারীরা হলেন- একই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির ইয়াছিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন (২৫) ও রাব্বি (২৩), একই বাড়ির আতিক পাটওয়ারীর ছেলে আসিফ (১৮) ও মাসুদের ছেলে রাব্বি (১৮)।
আব্দুর রহিম জানান, ৬ মাস আগে পাটওয়ারী বাড়ির ইয়াছিনের ছেলে আজিম ১শ’ টাকা ফেক্সিলোড বাকি নেয়। এরপর থেকে তিনি এলাকা ছাড়া হন। গত তিন/চার মাস আগে আব্দুর রহিমের বিকাশে আজিমের ছোট ভাই শাহাব উদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে তার মায়ের জন্য ১ হাজার টাকা পাঠায়। সেই টাকা উত্তোলন করে নেয়ার সময় তার মাকে বলে আজিমের বকেয়া ফেক্সিলোডের ১শ’ টাকা হাতে কেটে রাখেন তিনি।
সম্প্রতি শাহাব উদ্দিন বাড়িতে আসার পর তার ভাইয়ের বকেয়া বাবদ ১শ’ টাকা রাখার জন্য গত রোববার ও মঙ্গলবার বিকালে দোকানে এসে আমাকে (আব্দুর রহিম) গালমন্দ করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহাব উদ্দিন তার ভাই রাব্বি ও আসিফ এবং আরেক রাব্বিসহ আবারো দাকানে এসে গালমন্দ করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করেন।
এ সময় দোকান থেকে রাব্বি বিকাশের টাকা বাবদ রাখা একটি ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে যায় বলে জানান আব্দুর রহিম। এরপর আসিফের বাবা আতিক পাটওয়ারী এসেও আমাকে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেন। তিনি বলেন, এরা চাচাতো-জেঠাতো ভাইয়েরা এসে বাকি নেয়ার জন্য জোর-জবরদস্তি করে। আবার বাকি দিলে টাকা দিতে চায় না এবং বাকি টাকা চাইলে খারাপ ব্যবহার করে এবং হুমকি-ধমকি দেয়। তারা এলাকায় এভাবেই বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে এবং মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।
এদিকে বিষয়টি অস্বীকার করে আতিক পাটওয়ারী বলেন, মারধর ও টাকা লুটের বিষয়টি মিথ্যা। তবে তাদের মাঝে তর্ক-বির্তক হয়েছে। আব্দুর রহিমের মারমুখি আচরণের কারণে এই তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শাহাব উদ্দিন বলেন, আমার ভাইয়ের কাছে ফেক্সিলোডের ১শ’ টাকা পাবে, তা আমরা জানি না। ভাইয়ের সাথে আমাদের যোগাযোগ নেই। মায়ের জন্য আমি ১ হাজার টাকা রহিম ভাইয়ের বিকাশে পাঠিয়েছি। আমার মা টাকা উত্তোলনের সময় আমাকে না জানিয়ে তিনি ১শ’ টাকা হাতে কেটে রাখেন। আমার ছোট ভাই রাব্বি ও চাচাতো ভাই আসিফ ও রাব্বির উপস্থিতিতে এই কথাটি জিগাসা করলে তিনি মারমুখি আচরণ করেন। তাই আমরাও তার সাথে খারাপ আচরণ করি।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল আলিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, আব্দুর রহিমকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১০ ডিসেম্বর, ২০২০।