হাজীগঞ্জে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৪ হাজার শিক্ষার্থী পাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা

জানুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে : ইউএনও

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সারাদেশের মতো হাজীগঞ্জেও ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।
উদ্বোধনী দিনে হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজ ও হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮০ শিক্ষার্থীকে (ছাত্র ও ছাত্রী) ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম সোয়েব আহমেদ চিশতী। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার প্রায় ২৪ হাজার স্কুলগামী (স্কুল ও মাদরাসা) ১২ থেকে ১৭ বয়সী শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ‘ফাইজার’ এর টিকা খুব টেম্পারেচার সেনসিটিভ। এই ভ্যাক্সিনটি যে কেন্দ্রে এবং যে বুথে দিতে হয়, সেগুলো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হতে হয়। তাই হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের একটি কক্ষকে সে উপযোগী বুথ হিসেবে তৈরি এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টিকা কার্যক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন ৮ জন প্রশিক্ষিত টিকাদানকারী, শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ কোন শিক্ষার্থী অসুস্থবোধ করলে তাকে তাৎক্ষনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন ওই মেডিকেল টিম।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম সোয়েব আহমেদ চিশতী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুনির্মল দেউরী, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু ছাইদসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৩ হাজার ৮শ’ ২৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গতকাল সোমবার স্কুলগামী এই শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার উদ্বোধনী দিনে নবম, দশম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ মোট ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়। আগামি দিনে এবং ধারাবাহিকভাবে উপজেলার সব শিক্ষার্থী টিকা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী টিকা কার্যক্রমও আজ (সোমবার) থেকে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোন শিক্ষার্থী যেন টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সোয়েব আহমেদ চিশতী জানান, শিক্ষা কার্যক্রমকে নিয়মিত করার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে সরকার প্রয়োজনী টিকার ব্যবস্থা করেছে। আমরাও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে টিকা দেওয়ার বুথসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী যতজন শিক্ষার্থী রয়েছে, সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে যে ক’জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া যাবে, সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে আমরা এই টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই নির্দেশনার আলোকে ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরাও জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে আজ (সোমবার) থেকে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু করেছি।
তিনি বলেন, ‘ফাইজার’ এর টিকা টেম্পারেচার সেনসিটিভ। তাই হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের একটি কক্ষকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সমন্বয়ে এই কক্ষেই উপজেলার সব শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিকভাবে টিকা দেওয়া হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। টানা ১২ সপ্তাহ ধরে নতুন রোগী কমছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন রোগী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ সময় মৃত্যু কমেছে ৩১ শতাংশ। এর আগে গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। চলতি বছরের মার্চে এসে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দেয়। মাঝখানে কিছুদিন সংক্রমণ কমে এসেছিল।
এর আগে গত জুনের শেষে গিয়ে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়ায়। এক পর্যায়ে রোগী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপরে ওঠে। দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১০ থেকে ১৫ হাজার। দৈনিক মৃত্যুও দুই শতাধিক হয়েছিল। গত আগস্টের শুরুর দিকে সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। তবে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপকতা ছড়িয়েছে।

২১ ডিসেম্বর, ২০২১।