হাজীগঞ্জে ২ কোটি টাকার স্বর্ণ উত্তোলনে ২ লাখ টাকা চুক্তি

অবশেষে শ্রীঘরে ৩ কবিরাজ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
তিন কবিরাজের ফাঁদ। হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোঁয়া গ্রামের ক্বারী সাহেবের বাড়ির ইমান হোসেনের বসতঘরে মাটির নিচে রয়েছে ২ কোটি টাকার স্বর্ণ। ২ লাখ টাকা চুক্তি, অগ্রিম ১ লাখ টাকা দিলেই এই স্বর্ণ উত্তোলন করে দিবে তোফাজ্জল মুন্সী, আব্দুর রহিম ও তানিয়া আক্তার নামের তিন কবিরাজ। কিন্তু শনিবার রাতে নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়ে এখন তিন প্রতারক কবিরাজ রয়েছেন শ্রীঘরে (জেলহাজত)।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে সোপর্দ করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা হলেন- পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বহরমপুর গ্রামের তোফাজ্জল মুন্সী (৪০), একই জেলার বাউফল উপজেলার নওমালা গ্রামের আবদুর রহিম (৩০) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের তানিয়া আক্তার (২৫)। এ বিষয়ে প্রতারণার দায়ে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ঈমান হোসেন।
ইমান হোসেন সংবাদকর্মীদের জানান, তিনি বান্দরবানে ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে এই তিন কবিরাজদের সাথে পরিচয় হয় তার। তিনি বলেন, একদিন তারা আমাকে জানায়, আমার গ্রামের বাড়ির বসতঘরের মাটির নিচে প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণ রয়েছে। এই স্বর্ণ তারা তুলে দিবে। এজন্য তাদের দুই লাখ টাকা দিতে হবে। তাদের কথা আমি দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হই। এরপর শনিবার তারা আমার বাড়িতে আসে।
ইমান হোসেন আরো জানান, শনিবার রাতে যখন তারা স্বর্ণ উত্তোলনে বার-বার সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। তখন আমি তাদের কাছে জানতে চাই, কোন সমস্যা আছে নাকি। এরপর তারা আমার কাছে স্বর্ণ উত্তোলণ বাবদ অগ্রিম ও নগদ এক লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায়। তখন আমি বুঝতে পারি তারা প্রতারক। এর মধ্যে বিষয়টি বাড়ির লোকজন, স্থানীয় ও এলাকাবাসী জেনে যায়।
পরে ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দিলে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রতারক তিন কবিরাজ তোফাজ্জল মুন্সী, আব্দুর রহিম ও তানিয়া আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাদের রোববার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ সংবাদকর্মীদের জানান, আটক কবিরাজদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করার পর রোববার তাদের আদালতের প্রেরণ করা হয়। এরপর আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২।