হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের হামলায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আলমগীর হোসেন ও ফারুক হোসেন নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ৩১ মার্চ রাতে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামের আখন বাড়ির সম্মুখে এই হামলার
ঘটনা ঘটে। আহত যুবক আলমগীর হোসেন ওই গ্রামের হাজি জবেদ উল্লাহ সর্দারের ছেলে এবং ফারুক হোসেন তার নাতি।
আহত আলমগীরের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হামলাকারীরা হলেন- ওই গ্রামের রাহিম আলী ও তার ছেলে রাব্বিসহ অজ্ঞাত ১০/১২জন। বর্তমানে হামলাকারী রাহিম আলী ও তার ছেলে রাব্বি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা প্রবাসে পাড়ি দিয়েছেন বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে ওই গ্রামের নোয়া বাড়ির সাখাওয়াতের গায়েহলুদ ছিল। অনুষ্ঠানে অন্য গ্রামের কয়েক যুবকদের নিয়ে রাহিম আলীর ছেলে রাব্বি নারীদের বসার স্থানে প্রবেশ করে। এতে বাঁধা প্রদান করেন স্থানীয় রিয়াদ ও ফারুক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাব্বির বাবা রাহিম আলী সন্তানের পক্ষ নিয়ে তার হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করে রিয়াদকে।
ব্যাপারটি জানতে চেয়ে রিয়াদের মামা আলমগীর ও জাহাঙ্গীরের সাথে কথা কাটাকাটি হয় রাহিম আলীর সাথে। পরে ঘটনাটি স্থানীয় সালিসদার মজিবুর রহমানকে জানানো হলে তিনি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানান। এর কিছুক্ষণ পরেই দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করে আলমগীর ও ফারুকের উপর অতর্কিত হামলা চালায়, রাহিম আলী ও তার ছেলে রাব্বিসহ অজ্ঞাত ১০/১২জন।
এতে গুরুতর আহত হয় তারা। পারে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত আলমগীরের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে তুচ্ছ ঘটনায় দু’জনকে কুপিয়ে জখম করায় এলাকাবাসী হতবাক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে আহতদের পরিবারের লোকজন জানান, গুরুতর আহত আলমীগরের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং ফারুক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি, তবে থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে তারা জানান। আলমগীর ও ফারুক সুস্থ হলে তারা আইনের আশ্রয় নিবেন বলে তারা জানান। এদিকে অভিযুক্তদের খোঁজ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
০৪ এপ্রিল, ২০২১।
