হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুলে ১২শ’ স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ

 

সুস্বাস্থ্য ও নিরপদ মাতৃত্বে কৈশোরকালীন সময়েই স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে
……..ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রায় ১২শ’ ছাত্রীর মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। রোববার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত থেকে এই স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ ও ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, বয়সন্ধিকাল লজ্জার কোন বিষয় নয়, এটি সচেতনতার বিষয়। আমাদের (মেয়ে) সুস্থ থাকতে হলে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ মাতৃত্ব টেকসইকরণে কৈশোরকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বয়সন্ধিকালের প্রতি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এই সময়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। কোন ধরনের সমস্যা হলে মা অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে শেয়ার করতে হবে।
তিনি বলেন, মেয়েদের আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। সময় ও সুযোগ এসেছে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। সরকার সবধরনের সুযোগ তৈরি দিয়েছে এবং দিচ্ছে। সুতরাং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আগামি দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরাই দিবে। তাই তোমাদের এই সময় (কৈশোরকালীন) থেকেই স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে এবং বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
অধ্যক্ষ আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ইফফাত রুবাইয়া নাসির। তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে বিশেষ করে বয়সন্ধিকালের সমস্যা ও সমাধান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং টিটি টিকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে তিনি ছার্ত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাজার সুনির্মল দেউড়ি, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মমতাজ বেগম।
প্রভাষক আরিফ ইমাম মিন্টুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. আমির হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হোসাঈনুল আজম, ভোকেশনাল শাখার সমন্বয়কারী মো. জহিরুল ইসলাম মজুমদার, শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলমসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়ের অর্থায়নে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষে এই স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
১৬ নভেম্বর, ২০২০।