হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে সংখ্যালঘু এক পরিবারের সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভ্ক্তুভোগী পরিবার এবং তাদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ওই ভূমিতে স্থিতাবস্থা জারি করেন। ভুক্তভোগী পরিবার হলেন- হাজীগঞ্জ
পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের বিধান কুমার সাহা। তার স্ত্রী প্রিয়াংকা রানী সাহা গত ৪ মার্চ হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (নং- ১৯০) দায়ের করেন।
এছাড়া একই দিন ওই সম্পত্তি যেন জোরপূর্বক দখল করতে না পারে সেজন্য স্থিতাবস্থা চেয়ে অতিরিক্ত চেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে (সিআরপিসি কোর্ট নং-০১) একটি লিখিত আবেদন (নং- ৩৩৫/২০২১) করেন বিধান কুমার সাহার মা সুর রানী সাহা। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে একই দিন (৪ মার্চ) স্থিতাবস্থাসহ শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য জারি করে হাজীগঞ্জ থানাকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে নামীয় ২ জনসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে বিবাদী করা হয়। তারা হলেন- একই এলাকার মৃত ডা. ফজলুল হকের ছেলে এনামুল হক তালাল ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা লায়ন হারুন রশিদ। অপরদিকে আদালতে নামীয় ৪জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে প্রতিপক্ষ করা হয়।
নামীয় প্রতিপক্ষ ব্যক্তিরা হলেন- মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক তালাল ও তরিকুল ইসলাম এবং রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মিরবাগ এলাকার সামছুদ্দিন আহম্মদের ছেলে নাছির উদ্দিন আহম্মদ ও রমনা থানার বড় মগবাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারীর ছেলে মো. হারুন রশিদ।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী প্রিয়াংকা রানী সাহার স্বামীর পরিবারের লোকজন (বংশধর) ২১৩নং মকিমাবাদ মৌজার ৫২০নং সিএস, বিএস ১৫২৩নং হালে মোট ৪৮ শতাংশ ভূমি বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে। এর মধ্যে বিবাদী লায়ন হারুন অর রশিদের কাছে ৫.৭৫ শতাংশ ভূমি বিক্রি করে। লায়ন হারুন রশিদ অপর বিবাদী এনামুল হক তালালের কাছে ২০ শতাংশ ভূমি বিক্রির বায়না করেন।
এই বায়না সূত্রে মালিক হয়ে এনামুল হক তালাল তার লোকজন নিয়ে বাদী পক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে তাদের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করেন। অভিযোগে বিবাদীদের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছিত ও মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দেন বাদী প্রিয়াংকা রানী সাহা। তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে বিবাদী এনামুল হক তালাল সংবাদকর্মীদের জানান, উল্লেখিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বরং অভিযোগের যারা বাদী তাদের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুইটি মামলায় বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
১০ মার্চ, ২০২১।
