মাজহারুল হক চক্ষু হাসপাতালে ডা. গফুর ও ডা. রুহুল আমিন স্মরণে দোয়া


স্টাফ রিপোর্টার
মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চিকিৎসক, ভাষাসৈনিক ও সমাজসেবক আলহাজ ডা. এম এ গফুর এবং হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আজীবন সদস্য আলহাজ ডা. মো. একিউ রুহুল আমিনের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. মো. শাখাওয়াত উল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা ডা. এম. এ গফুর এবং ডা. মো. একিউ রুহুল আমিনের মত প্রতিথযশা চিকিৎসক এবং সমাজসেবকদের হারালাম। এ ধরনের মানুষ সমাজে বিরল। চাঁদপুরে ডা. গফুরের মতো এতোটা নিঃস্বার্থ সমাজসেবী আর নেই। তিনি বহু সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড করেছেন। তারা নিঃস্বার্থভাবে মানবসেবায় যে অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা চাঁদপুরের ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরব ও অহঙ্কারের। তারা সবসময় মানুষের কল্যাণের জন্যে কাজ করে গেছেন। তারা নিজেদের কর্মে সৎ এবং নিষ্ঠাবান ছিলেন।
হাসপাতালের ম্যানেজার (এডমিনিস্ট্রেশন) শামীম খানের পরিচালনায় মরহুমদের কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক এমএ মাসুদ ভূঁইয়া। পবিত্র কোরআন খতমের মাধ্যমে শুরু হওয়া দোয়া মাহফিলে হাফেজ মাও. মো. খোরশেদ আলমের পরিচালনায় মরহুমদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, ডা. গফুর এবং ডা. রুহুল আমিনের মতো এতোটা নিঃস্বার্থ সমাজসেবী খুব কমই আছে। তারা নিঃস্বার্থভাবে আধুনিক সমাজ বিনির্মানে মানবসেবায় যে অবদান রেখে গেছেন তা চাঁদপুরের ইতিহাসে বিরল। তারা হাসপাতাল, মসজিদ-মাদ্রাসা, রোটারী ক্লাবসহ দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন এবং তাদের সুদক্ষ নেতৃত্ব এবং দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলো আজ সমহিমায় সুপ্রতিষ্ঠিত। বক্তারা মরহুম চিকিৎসক ও সমাজসেবকগণের স্মৃতিরক্ষা ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে চাঁদপুরের বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করার দাবি জানান এবং নাগরিক শোকসভা আয়োজনের আহ্বান জানান। সকলেই মরহুমগণের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের কোষাধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র রায়, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য তমাল কুমার ঘোষ, আজীবন সদস্য শহীদুল্লা মাস্টার, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ও আজীবন সদস্য ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, আলহাজ মোস্তাক হায়দার চৌধুরী, মরহুম ডা. এম এ গফুরের ছোট ছেলে অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, মরহুম ডা. মো. এ কিউ রুহুল আমিন সাহেবেরে একমাত্র ছেলে আয়মান আমিন নবীন প্রমুখ।
দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এম. এ বারী খান, সদস্য মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আজীবন সদস্য রোটা. জামাল হোসেনসহ হাসপাতালের সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ। এছাড়া চাঁদপুরের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ, মিডিয়াকর্মীবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট ভোর ৫টায় ডা. এমএ গফুর ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ৮৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ঐদিন বাদ জুমা চাঁদপুর পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে শহরের বাসস্ট্যান্ডস্থ পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ডা. মো. এ কিউ রুহুল আমিন গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২.১৫ টায় ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে ৬৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং পরদিন সকাল ৯টায় চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরহুমের দাফন করা হয়।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।