
চাঁদপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই
… পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার)
এস এম সোহেল
নবাগত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, আমি আপনাদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। চাঁদপুরে এসে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম দেখে আমি খুবই উৎসাহিত হয়েছি। ১৯৬৭ সালে ইউএসএ প্রথম কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। আজ আমাদের দেশেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে চাঁদপুর কমিউনিটি পুলিশ মডেল হিসেবে পরিচিত। এ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে দরকার সম্মিলিত প্রয়াস ও সবার অংশগ্রহণ। চাঁদপুরের কমিউনিটি পুলিশিংয়ে সবার স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কাজকে তরান্বিত করেছে। চাঁদপুরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে ১৪শ’ পুলিশ কাজ করছে। এ কার্যক্রমের সাথে কমিউনিটি পুলিশ থাকাতে কাজগুলো করতে সহজ হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল জেলা পুলিশ লাইনের ড্রিলসেডে কমিউনিটি পুলিশিং নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, আমাদের সামনে ৬টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত ক্রাইম কন্ট্রোল করা, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা যেন ক্রাইমের সাথে জড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। সারাবিশ্বে যেহেতু নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে সে ধারাবাহিকতায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সিপিও পরিবর্তন হলে যেন কার্যক্রম ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাঝারি লেভেলের অফিসারদের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রমে আন্তরিক হতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা দরকার। যেমনিভাবে পুলিশের কাজের বার্ষিক মূল্যায়ন হয় তেমনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কাজ মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলে চাঁদপুরের কমিউনিটি পুলিশ সারা দেশে সেরা হিসেবে উন্নিত হবে।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের বিদায়ী এসপি জিহাদুল কবির আমার বন্ধু। সে আমাকে দু’টো কথা বলেছিল। প্রথমত এখানে অস্ত্র নেই, দ্বিতীয়টি হচ্ছে কমিনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম বেশ জোড়ালো। জাবেদ পাটওয়ারী স্যারের বাড়ি চাঁদপুরে, তাই আমাদের আরো সচেষ্ট হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে হবে। সিনিয়র সিটিজেন, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ সকলকে নিয়ে মাদকের ও গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। সবার সাথে বন্ধুত্ব থাকবে কারো সাথে শক্রতা নয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালে এ জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং এ যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১৯ হাজার ব্যক্তি কমিউনিটি পলিশিং কমিটির সাথে যুক্ত হয়েছে সবার ফোন নম্বরসহ ফাইল রয়েছে যা অনেক সংগঠনের জন্য দৃষ্টান্ত।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌর মেয়র ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সবার সহযোহিতায় সমাজ সমৃদ্ধ হয়। তাই পুলিশ প্রশাসনের সাথে কমিউনিটি পুলিশিং ও জনগণের সবার সহযোগিতায় আজ চাঁদপুরসহ সারাদেশের কাছে দৃষ্টান্ত। জাতির পিতা আমাদের একটি রাষ্ট্র, পতাকা, সংবিধান দিয়ে গেছেন। তিনি মাত্র সাড়ে ৩ বছরের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্য সবকিছু করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার সকলকে ম্যাসেজ দিয়েছেন, যাতে কোন অবৈধ কর্মকান্ডকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া না হয়। বর্তমানে সমাজ মাদকে সয়লাব, তাই পুলিশ সুপার এ বিষয়ে কোন ছাড় দিবেন না বলে আমি মনে করি। সরকার আমাদের নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করছে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে। পুলিশ স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে অদ্যাবধী কাজ করে যাচ্ছে। যে কোন কাজে আমরা পুলিশের সহযোগী হয়ে কাজ করবো।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী বলেন, পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং জনতাকে সাথে নিয়ে সমাজ থেকে মাদকে দূর করতে হবে। মাদক সমাজের সকল সন্ত্রাসী কাজের মূল হিসেবে কাজ করে। তাই আমাদের যুব সমাজকে মাদকের ছায়া থেকে দূরে রাখতে হবে। এ জন্য অভিভাবকদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ডা. এস.এম শহীদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মিজানুর রহমান শেখের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি কাজী শাহাদাত, সুভাষ চন্দ্র রায়, তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইসচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন, পৌর কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি শেখ মনির হোসেন বাবুল, সদর উপজেলার সভাপতি সালেহ মো. জিন্নাহসহ উপজেলা ও পৌর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইনস জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ আব্দুস সালাম। গীতা পাঠ করেন কচুয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক প্রনব রায়।
পরে ডা. এম এ গফুর, ডা. রুহুল আমিন ও আবুল কালাম পাটওয়রীসহ কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত যেসব ব্যক্তি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তাদের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।
