বখাটেদের উৎপীড়নে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

কচুয়া ব্যুরো
কচুয়ায় বখাটেদের উৎপীড়নের যন্ত্রণা সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে রুপা রানী দাস (১৭) নামের এক স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলার এজহারভুক্ত ১নং আসামি বখাটে আশিষ দেবনাথকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়া থানার এসআই আনোয়ার কুমিল্লা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার চকবাজার এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আশিষ দেবনাথ কচুয়া উপজেলার পলাশপুর গ্রামের অজিত দেবনাথের ছেলে। পরে আশিষকে চাঁদপুরের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এর আগে রুপা রানী দাসের বাবা রতন চন্দ্র দাস কচুয়া থানায় নিজে বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৩, তারিখ ১৪/১/২০২০ খ্রিঃ। মামলার আসামিরা হলেন- পলাশপুর গ্রামের অজিত দেবনাথের ছেলে আশিষ দেবনাথ (২১), কড়ইয়া পাটিয়াল পাড়ার দীজেন্দ্র পাটিকরের ছেলে সজীব পাটিকর (২১), কোয়া মিস্ত্রি বাড়ির জুলহাস মিয়ার ছেলে মো. আনিছ (২০), কড়ইয়া পাটিয়াল পাড়ার যুবরাজ সরকারের ছেলে পংকজ সরকার (২০) ও চান্দিনা থানার নবাবপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে শাকিল আহম্মেদ (২২) সহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জন।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় কচুয়া রতন চন্দ্র দাসের স্কুল পড়ুয়া রুপা রানী স্কুল থেকে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়িতে আসে। এর মধ্যে রুপা রানীর পরিবারের লোকজন পাশের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। বিকেল ৪টার দিকে রুপা রানীর মা দীপা রানী দাস দাওয়াত খেয়ে বাড়িতে আসার পথে বাড়ির সামনে আসলে উপরোক্ত আসামিরা রুপার রানীর বিষয়ে বিভিন্ন কটাক্ষ করে এবং উসকানীমূলক কথা-বার্তা বলে। এ কটাক্ষ ও উসকানীমূলক কথার জ্বালা সইতে না পেরে রুপা রানী দাস সবার অলক্ষে ঘরে প্রবেশ করে গলায় ফাঁস আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
রুপা রানী স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাং নেতা আশিষসহ আসামিরা রাস্তা-ঘাটে প্রেমের প্রস্তাব ও বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিত। এসব ঘটনা এজহারে বর্ণিত আসামিদের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাদের পরিবারের কাছে এই বিচার দেওয়ায় আশিষ দেবনাথ ও তার সহকর্মীরা রুপার বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে ক্ষতি করা এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলানোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়। তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ১২ জানুয়ারি রুপা প্রাইভেট থেকে আসার সময় তারা রুপার পিছু নিয়ে বাড়িতে এসে ঘরে প্রবেশ করার জন্য দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করে। আশিষ ও তার সহকর্মীরা দরজা খুলতে না পেরে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের কাছে থাকা মেয়ের ছবি এলাকার লোকজনসহ ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। এতে করে রুপা তাদের অপমান সহ্য করতে না পেরে মনের ক্ষোভে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
রুপার পরিবারের সদস্যরা আরো দাবি করে এই কিশোর গ্যাং ও তাদের গড ফাদাররা এতই ভয়ংকর ছিল যে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজের ছাত্রীরা আসা-যাওয়া পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হত।
এলাকাবাসী ও রুপার পরিবারের সদস্যরা রুপার আত্মহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে।
