হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লী কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মসজিদ কমপ্লেক্সের দোকান বিক্রির নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় রোববার (১৮ অক্টোবর) তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান।
আটকরা হলেন- হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের (আহমদ আলী ওয়াকফ এটেস্ট) বর্তমান মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও তার বাবা মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারী। একই মামলায় আদালত কক্ষে হাততালি দেয়াকে কেন্দ্র করে মামলার বাদীকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে বাদীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বাদী মো. কবির হোসেন লিটনের পক্ষে তার স্বজনরা জানান, কমপ্লেক্সের আওতাধীন বিজনেস পার্ক মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান কেনার জন্য তিনি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও তাকে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিশোধ করা টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন বাদী।
ওই মামলায় সি/ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) মূলে সিআর ৬৩৫/২০২৬ নম্বর মামলায় বিবাদী প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও তার বাবা ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে আদেশ ঘোষণার পর আদালত কক্ষে বাদী কবির হোসেন লিটন খুশিতে হাততালি দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বিচারক বাদীকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে একই মামলায় অভিযোগের মুখে পড়ে আসামিদের কারাগারে যাওয়া এবং পরে বাদীর বিরুদ্ধেও আদালতের এমন নির্দেশের ঘটনায় আদালতপাড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এবং বাদী পক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।
উল্লেখ্য, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচত আহমদ আলী ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এর মধ্যে লাখ লাখ টাকায় পজিশন বিক্রি/অগ্রিম নিয়ে সার্ভিস চার্জের নামে গলাকাটা ভাড়া আদায়, ভাড়াটিয়া পরিবর্তন হলে কাগজপত্রে নাম পরিবর্তনের নামে মানি রিসিট ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়, দোকান-ঘর ফেরৎ দিতে গেলে কালক্ষেপণ। আবার ফেরৎ নিলে অগ্রিম বাবদ জমাকৃত টাকা একসঙ্গে না দিয়ে বিভিন্ন ধাপে প্রদান ও হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বেশি ভাড়া আদায়কৃত দোকানগুলো স্বজনসহ নামে-বেনামে মোতওয়াল্লীর ভোগদখল। মার্কেট নির্মাণের আগে একরকম পজিশন দেখিয়ে নির্মাণের পর এক দোকানকে একাধিক দোকানে ভাগ করা। আবার কাউকে দোকান বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ, টাকা ফেরৎ দিতে কালক্ষেপণ। মসজিদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না করে নতুন নতুন মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল। নির্মাণ কিংবা সংস্কার কাজে অতিরিক্ত বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সবেশেষ মোতওয়াল্লী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ মডেল হসপিটাল স্থাপনের নামে কোটি কোটি টাকা শেয়ার বিক্রি করে টাকা আদায় এবং শেয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরৎ দিতে কালক্ষেপণ, আবার একসঙ্গে টাকা ফেরৎ না দিয়ে বিভিন্ন ধাপে প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সরকারি ভূমি দখলে রাখা’সহ লোকমুখে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে মোতওয়াল্লী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি উল্লেখিত বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেল। তবে বরাবরের মতো সকল অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছেন সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লী। সম্প্রতি তারা মব সৃষ্টির আশংকা করে লিফলেট এবং বই আকার প্রকাশ করে নিজেদের ও কমপ্লেক্সের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। মুসল্লি ও ব্যবসায়ীদের কাছে ওইসব লিফলেট ও বই বিলি করেন তারা।
এছাড়া বিষয়টি নিয়ে একাধিক জাতীয় ও চাঁদপুরের প্রায় সব স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইনে সংবাদ ও বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করেছেন। এদিকে কমপ্লেক্সের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

১৮ অক্টোবর, ২০২৬।